বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনের সাংসদ শেখ ফরিদুল ইসলাম তার নির্বাচনি এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রথমবারের মত তিনি জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিলেন।
বক্তব্যের শুরুতে শেখ ফরিদুল প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে নির্বাচনি এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ৩৪ বছর পর তারা একটি পরিবারের বাইরে গিয়ে তাকে নির্বাচিত করেছেন।’
শেখ ফরিদুল আরও বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে।’
তিনি বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপি নেতাকর্মীদের ত্যাগের কথাও তুলে ধরেন।
তার দাবি, এসব আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী মামলা, নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছেন।
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ ফরিদুল বলেন, ‘কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ প্রকল্প ও পরিবেশ সংরক্ষণে গাছ লাগানোর কর্মসূচিও চলমান রয়েছে।’
নিজ নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাগেরহাট ভৌগোলিকভাবে দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মোংলা বন্দর, সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরের নীল অর্থনীতির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।’
শেখ ফরিদুল মোংলা নদীর ওপর একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযোগ সহজ হবে এবং বর্ষা মৌসুমে মানুষের দুর্ভোগ কমবে।’
এছাড়া মোংলা বন্দরের পাশের সাইলো ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি উল্লেখ করে শেখ ফরিদুল বলেন, ‘বর্তমানে এটি জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য টেকসই নয়।’
রামপালের ফয়লাহাটে ঘোষিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরও প্রকল্পটির দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এটি চালু হলে মোংলা বন্দর, সুন্দরবন ও শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সহজ হবে।’
‘এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
শেখ ফরিদুল স্পিকারের কাছে তার এলাকার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
কেকে/এমএ