মে দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সিটিজেনস এগেইনস্ট করাপশনের (সিএসি) উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘শ্রমিকের অধিকার, দুর্নীতির অবসান : সমৃদ্ধ আগামীর স্বচ্ছ অভিযান’।
সিটিজেনস এগিনেস্ট করাপশনের চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেনের সভাপতিত্বে ও জেনারেল সেক্রেটারি সালমান মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সচিব, বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান ও শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের দৌহিত্র মার্গুব মোর্শেদ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সিএসির উপদেষ্টা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও গবেষক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট শিল্পপতি ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলম খসরু, ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হাবিবুর রহমান রিজু ও কবি আশরাফুল ইসলাম।
সভায় ইউসুফ হোসেন বলেন, ‘শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হলেও এখনও অনেক ক্ষেত্রেই তারা ন্যায্য মজুরি, কর্মস্থলের নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। শ্রমিকবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই বৈষম্য দূর করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গার্মেন্টস, নির্মাণ, পরিবহন ও শিল্পখাতসহ সকল সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য বেতন, চিকিৎসা সুবিধা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’
মার্গুব মোর্শেদ বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও শ্রমিকবান্ধব নীতি ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাষ্ট্র, মালিক ও শ্রমিক—সবার মধ্যে জবাবদিহিতা ও সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
সালমান মাহমুদ বলেন, ‘এই দেশ থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতি দুর করার মাধ্যমে আমাদের এই দেশকে শ্রমিক বান্ধব, ব্যবসায় বান্ধব ও নিরাপদ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই সিটিজেন এগেইনস্ট করাপশন সেই পথেই যাত্রা শুরু করেছে।’
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম পূর্বশর্ত।’
খোর্শেদ আলম খসরু বলেন, ‘দেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনরা। চলচ্চিত্র বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আরো ভূমিকা রাখে এই শিল্পের সাথে যারা দিন-রাত এক করে দেয় শ্রমিকরা। তাদেরকে অবশ্যই চিকিৎসা ও ভালো রাখার জন্য ভাবতে হবে। আমরা দুর্নীতি ও অনিয়মের বাইরে থাকার জন্য সিএসি থেকে প্রতিমাসে সারাবাংলাদেশের মানুষের দরবারে পৌঁছাব ইনশাল্লাহ।’
সভায় আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সহ-সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন, ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সভাপতি তৌহিদুর রহমান, ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টারের সভাপতি সুলতানা বেগম, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি মাহফুজুর রহমান সমুদ্র, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, স্বপ্নীলের চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম টিপু, গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন শহীদ, আরজিএফের চেয়ারম্যান এসএম জহিরুল ইসলাম, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজ, বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা, আমার গৌরব ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আফরোজা তালুকদার, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
সভায় অতিথিরা সমাজের সর্বস্তর থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক আন্দোলন জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কেকে/এমএ