মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
জাতীয়
আসুন দেশ গড়ার শ্রমিক হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করি : প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৬:৪৬ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

দেশ গড়ার শ্রমিক হিসেবে প্রত্যেকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শুক্রবার (১ মে) বিকালে ঢাকার নয়া পল্টনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।
 
সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শুধু যে শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক বা নারীদের তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে তা নয়, বরং দেশের প্রত্যেকটি খেটে খাওয়া মানুষকে তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। সেজন্যই এ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। আমরা দেখেছি, স্বৈরাচারের সময় কিভাবে লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি, শিল্প-কলকারখানা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। দেশের প্রত্যেকটি খাতকে ধ্বংস করার মাধ্যমে সব শ্রেণির মানুষকে আঘাত করা হয়েছিল এবং শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছিল।’
 
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এখন সময় হচ্ছে শ্রমিক, শিক্ষক, ছাত্র, নারী-পুরুষ সবাই মিলে দেশ গড়ার মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

‘আমার সামনে একটি ব্যানার আছে, যেখানে লেখা রয়েছে—‘বন্ধ কলকারখানা চালু করতে হবে’। প্রিয় ভাই ও বোনেরা, বর্তমান বিএনপি সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। দায়িত্ব নেয়ার পরপরই আমি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বসেছি এবং নির্দেশনা দিয়েছি কিভাবে দ্রুত বন্ধ কলকারখানাগুলো চালু করা যায়, যাতে কর্মসংস্থান হারানো শ্রমিকদের পুনরায় কর্মের ব্যবস্থা হয়। ইনশাআল্লাহ, বিগত বছরগুলোতে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো আমরা পর্যায়ক্রমিকভাবে চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি।’
 
তিনি বলেন, ‘শুধু কারখানা চালু করলেই হবে না, দেশে আরও বহু বেকার রয়েছে, যাদের জন্য দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি এবং তাদের উৎসাহ দিচ্ছি, যাতে তারা এ দেশে কলকারখানা তৈরি করে। আমরা জানি শ্রমিকরা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে; কৃষকরা ভালো থাকলে এবং সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ভালো থাকলেই বাংলাদেশ ভালো থাকবে।’
 
যানজট ও সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য রাস্তা থেকে হকারদের সরানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমরা বুঝি তাদেরও পরিবার আছে। তাই আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি, যাতে তাদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) থেকে উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরীতে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা পর্যায়ক্রমিকভাবে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছি।’
 
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, রাষ্ট্র মেরামত ও সংস্কার ছাড়া কোনো উপায় নেই। আজ থেকে প্রায় আড়াই-তিন বছর আগে আমরা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি খাত সংস্কারের জন্য ১ দফা জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছিলাম। সেখানে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও নারীদের কথা বলা হয়েছে। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ শুরু করেছি। নারীদের জন্য যে ফ্যামিলি কার্ডের কথা আমরা বলেছি, তা শ্রমিক ও কৃষকদের স্ত্রীসহ সাধারণ পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছাবে। রাষ্ট্র শ্রমিকের পরিবারের পাশে দাঁড়াবে যাতে তাকে দুশ্চিন্তা করতে না হয়। এছাড়া খেটে খাওয়া মানুষের সন্তানদের জন্য উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।’
 
‘আমরা কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছি এবং কৃষক কার্ড দেয়ার কাজ শুরু করেছি। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম থেকে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা আগামী প্রজন্মের প্রতিভা খুঁজে বের করব এবং শনিবার (২ মে) থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।’ 

তারেক রহমান বলেন, ‘গ্রামের মানুষের পানির সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা শহীদ জিয়ার সেই বিখ্যাত কর্মসূচি ‘খাল খনন’ পুনরায় শুরু করেছি। এর মাধ্যমে কৃষক ও সাধারণ মানুষ উভয়েই উপকৃত হবে। আজ সময় এসেছে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। কৃষক, শ্রমিক ও ছাত্র-জনতার ভাগ্য পরিবর্তনের মাধ্যমেই দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব।’
 
‘বাংলাদেশ যখনই গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে, তখনই এ দেশে কলকারখানা গড়ে উঠেছে, অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে এবং শিক্ষার পরিবেশ ফিরে এসেছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এক সময় বিশ্ব দরবারে ‘এমার্জিং টাইগার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। কিন্তু কিছু মহলের এটি পছন্দ নয় এবং তারা অতীতের মতো ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বিশেষ করে ১২ তারিখের নির্বাচনের পর যখন বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্রের পথে চলা শুরু করল, তখন তারা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে বিতর্কিত ও বন্ধুহীন করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিশ্ব দরবার দেখছে বর্তমান সরকার জনগণের সমর্থনে গঠিত। তাই, তারা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে বিনিয়োগ ও শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তনের বিষয়ে কথা বলছে।’
 
কেউ যাতে অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সেই ব্যাপারে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে, যেভাবে আমরা স্বৈরাচারকে জবাব দিয়েছিলাম। এখন কাজ একটাই—দেশ গড়া। আপনারা যেমন ইমারত নির্মাণ, পাটকল বা পোশাক শিল্পে কাজ করছেন, আমি চাই একজন শ্রমিক হিসেবে আমার নামটি আপনাদের খাতায় লেখাতে। এমনকি আমি মন্ত্রিপরিষদের সব সদস্যের নামও শ্রমিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে চাই, কারণ আমরা আপনাদের পাশে থেকে দেশ গড়তে চাই। আমাদের নির্বাচনের স্লোগান ছিল—‘করবো কাজ সবার আগে’। এটিই আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের স্লোগান।’ 

তিনি বলেন, ‘আসুন, আজ আমরা প্রত্যেকে শপথ নিই যে দেশ গড়ার শ্রমিক হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করব। মনে রাখতে হবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই কথা—‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ’। এই বাংলাদেশই আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  দেশ গড়ার শ্রমিক   নিজেদের প্রস্তুত করা   প্রধানমন্ত্রী  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close