কিশোরগঞ্জে বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের প্রভাবে নদ-নদীর পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার অধিকাংশ পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাওরাঞ্চলের বোরো চাষিদের মধ্যে উৎকণ্ঠা আরও ঘনীভূত হয়েছে। যদিও আজ সকাল থেকে রোদের দেখা মিলেছে, তবে পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ৯টায় কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে তথ্য অনুযায়ী জেলার ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৩০ মিটার, যা আগের দিনের তুলনায় ৪ সেন্টিমিটার বেশি।
চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২.৯৬ মিটার, বৃদ্ধি পেয়েছে ১ সেন্টিমিটার। অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ২.৬২ মিটার, যা ৪ সেন্টিমিটার বেড়েছে। অন্যদিকে ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি সামান্য কমে ১.৭১ মিটারে নেমেছে, যা গতকালের তুলনায় ১ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সবকটি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৮৫ থেকে ৪০৯ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ইতোমধ্যে হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর জমির আধাপাকা ও পাকা ধান তলিয়ে গেছে। নিকলী আবহাওয়া অফিস গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। রোদ ওঠায় পানি বাড়ার গতি কিছুটা কমলেও তলিয়ে যাওয়া জমির ধান উদ্ধার করা নিয়ে কৃষকরা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, শনিবার বিকেল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের তথ্যমতে সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে ৪৯ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায়। বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরির কাজ করছেন।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস থাকায় আগেই দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
হাওরাঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকরা এখন কেবল প্রকৃতির কৃপার দিকেই চেয়ে আছেন, যাতে নতুন করে ঢল না নামে এবং দ্রুত পানি নেমে গিয়ে অবশিষ্ট ফসলটুকু রক্ষা পায়।
কেকে/ এমএস