দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু বলেছেন, ‘উত্তরাঞ্চলের বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং শিল্পায়নের প্রসারে কর্মসংস্থানের বিকল্প নেই।’
সোমবার (১১ মে) সকালে লালমনিরহাট জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘প্রাণ-আরএফএল চাকরি মেলা’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘আলোকিত লালমনিরহাট গড়তে কর্মসংস্থানের বিকল্প নেই। সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে তরুণদের চাকরির সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এ চাকরি মেলার মাধ্যমে প্রায় এক হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘লালমনিরহাট উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। শিল্প-কারখানার অভাব এবং সীমিত কর্মসংস্থানের কারণে এ অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত যুবক-যুবতী বেকার অবস্থায় রয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় তিনি লালমনিরহাটকে একটি আধুনিক ও কর্মসংস্থানমুখী জেলা হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।’
মন্ত্রী জানান, কৃষিনির্ভর লালমনিরহাটে ধান, গম, ভুট্টা ও আলুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপকে এ অঞ্চলে শিল্প-কারখানা স্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আর্থিক সংকট, যাতায়াত সমস্যা এবং বিভিন্ন জেলায় চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক শিক্ষিত তরুণ-তরুণী পিছিয়ে পড়ছেন। বিষয়টি প্রাণ-আরএফএল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা লালমনিরহাট জেলা থেকে এক হাজার মানুষের চাকরির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেয়।’
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘শুধু কর্মসংস্থান নয়, শিক্ষা বিস্তারেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তিস্তা চরাঞ্চলের মেয়েদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করতে সাইকেল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ ও অভিজ্ঞতা অর্জনের মধ্য দিয়েই দক্ষ জনশক্তি গড়ে ওঠে। তরুণদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।’
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের রিক্রুটমেন্ট হেড নূরুল আলম খান ও নাফিস ইনদালিব অর্নব। এছাড়াও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/ এমএস