মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে সংবিধান সংশোধন কমিটি, বিরোধীদের ওয়াকআউট      তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা      ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      
জাতীয়
মানবিকতা, স্বপ্ন, সাহস ও সফলতার আরেক নাম আবু আবিদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:১৩ পিএম
মুহাম্মদ আবু আবিদ

মুহাম্মদ আবু আবিদ

বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে ঘিরে যখন হতাশা, বিভ্রান্তি কিংবা আত্মকেন্দ্রিকতার আলোচনা বেশি শোনা যায়, তখন কিছু মানুষ নীরবে ভিন্ন এক গল্প লিখে চলেন। মুহাম্মদ আবু আবিদ সেই বিরল মানুষদের একজন—যিনি শুধু স্বপ্ন দেখেন না, বরং স্বপ্নকে সংগঠিত শক্তিতে রূপ দিতে জানেন। সাংবাদিকতা, সামাজিক নেতৃত্ব এবং মানবিক উদ্যোগ—এই তিনটি ক্ষেত্রকে এক সুতোয় গেঁথে তিনি তৈরি করেছেন নিজস্ব এক আলাদা পরিচয়। 

চট্টগ্রামের হালিশহরে জন্ম হলেও তার শেকড় পটুয়াখালীর দশমিনায়। ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতিচর্চার প্রতি ছিল গভীর টান। নাটক, আবৃত্তি, বিতর্ক কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ড—সব জায়গাতেই ছিল তার সক্রিয় উপস্থিতি। খুব অল্প বয়সেই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন, মানুষের জন্য কাজ করার মধ্যেই জীবনের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি লুকিয়ে আছে। বন্ধুমহলে নেতৃত্ব দেওয়ার সহজাত ক্ষমতা ছিল জন্মগত। আর সেই নেতৃত্বই একসময় তাকে নিয়ে যায় সাংবাদিকতা ও সামাজিক আন্দোলনের ভিন্ন এক জগতে।

দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করতে গিয়ে তিনি সমাজের বাস্তব চিত্র খুব কাছ থেকে দেখেছেন। বর্তমানে তিনি দেশের স্যাটেলাইট ভিত্তিক বেসরকারি টেলিভিশন মোহনা টিভির চীফ এডিটর (প্ল্যানিং , অনলাইন ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যুক্ত রয়েছেন। তিনি টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ট্র্যাব)-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন ক্রাইম রিপোর্টার্স সোসাইটি (ডিএমসিআরএস)-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তবে মুহাম্মদ আবু আবিদ এর সবচেয়ে আলোচিত পরিচয় এসেছে “দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন”-এর মাধ্যমে। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তরুণদের অংশগ্রহণভিত্তিক মানবিক উদ্যোগের একটি বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। আবিদের ভাবনায় সমাজসেবা শুধু দান নয়; এটি মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গড়ে তোলার এক সৃজনশীল প্রক্রিয়া। সেই দর্শন থেকেই একের পর এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি। 

ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ


ফাউন্ডেশনের সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি “আমরা মালি”। সাধারণ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বাইরে গিয়ে এই উদ্যোগ তরুণদের শেখায়—গাছ লাগানোই শেষ কথা নয়, গাছকে বাঁচিয়ে রাখাও দায়িত্ব। পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে এই ধারণা ব্যাপক সাড়া ফেলে। হাজারো তরুণ এতে যুক্ত হয়, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি আলোচনায় আসে নতুনভাবে।  

শুধু পরিবেশ নয়, সমাজের প্রান্তিক মানুষদের নিয়েও কাজ করেছে দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন। “ফ্রি ঈদ শপিং”, “ফুড ফর অল”, “শীতের উষ্ণ আহার”, “আমরা মানুষ”, “বৃদ্ধাশ্রমে ঈদ আনন্দ”, “ভিন্নধর্মী ভালোবাসা দিবস”, “বখশিশ মেলা”—এমন নানা উদ্যোগে দেখা গেছে মানবিকতার এক ভিন্ন চিত্র। এখানে সাহায্যকে করুণা হিসেবে নয়, বরং সম্মান ও অংশগ্রহণের জায়গা থেকে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে। 

মুহাম্মদ আবু আবিদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো স্বচ্ছতা নিয়ে তার অবস্থান। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সংগঠনটি সদস্য ফি বা প্রচলিত অনুদাননির্ভর কাঠামোর বাইরে গিয়ে প্রকল্পভিত্তিক সহায়তার মডেলে কাজ করে। প্রতিটি উদ্যোগের আগে পরিকল্পনা ও ব্যয়ের বিবরণ প্রকাশ করার বিষয়টিকে তিনি গুরুত্ব দেন। তরুণদের মধ্যে দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই ধারণা ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

পুরস্কার ও স্বীকৃতিও এসেছে তার ঝুলিতে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংগঠন তার সামাজিক নেতৃত্ব ও মানবিক কর্মকাণ্ডকে সম্মান জানিয়েছে। তবে নানা সাক্ষাৎকার ও লেখায় মুহাম্মদ আবু আবিদ বারবার বলেছেন, মানুষের ভালোবাসাকেই তিনি সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মনে করেন। এই বিনয়ই হয়তো তাকে তরুণদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। 

আজকের বাংলাদেশে তরুণ নেতৃত্ব নিয়ে যখন নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, তখন মুহাম্মদ আবু আবিদ এর যাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ তিনি দেখিয়েছেন—সামাজিক পরিবর্তন শুধু বড় রাজনৈতিক স্লোগানে আসে না; কখনও কখনও একটি মানবিক উদ্যোগ, একটি সচেতন ভাবনা কিংবা কয়েকজন স্বপ্নবাজ তরুণও বদলে দিতে পারে বহু মানুষের জীবন।

মুহাম্মদ আবু আবিদের গল্প তাই শুধু একজন ব্যক্তির গল্প নয়। এটি এমন এক প্রজন্মের গল্প—যারা বিশ্বাস করে, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখনো পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর কাজ।


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close