পটুয়াখালীর গলাচিপার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা ফিডিং খাবারের মান নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দুপুরে সংক্ষিপ্ত ক্ষুধা নিবারণ ও শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতকল্পে বিতরণ করা খাবারের মধ্যে মানহীন কাঁচা ও পচা কলা, দুর্গন্ধযুক্ত নিম্নমানের রুটি, মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ ও নিম্নমানের ডিম সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার উপকূলীয় বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন চরবিশ্বাস ও চরকাজলসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত নিম্নমানের খাবার দিচ্ছে। এতে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত হওয়ার পরিবর্তে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
চরবিশ্বাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. নাজমুল হাসান, মো. রাকিব, রোকেয়া আক্তার ও আয়শা মণি এবং মধ্য চরকাজল, উত্তর বড় চরকাজল ও ছোট কাজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফজাল হোসেন, ফাতেমা আক্তার, মো. ইব্রাহিম, মিলন ও রাকিব জানায়, স্কুলে কলা আর রুটি দেয়। কিন্তু অনেক সময় কলা কাঁচা থাকে, খাওয়া যায় না। আবার রুটিতে গন্ধ থাকে। কেউ খায়, কেউ বাড়িতে নিয়ে যায়।
অভিভাবক মো. জাকির হাওলাদার, আলমগীর হোসেন, জলিল মাঝি ও ইউসুফ মোল্লাসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ‘শিশুদের জন্য মানসম্মত খাবার দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক স্কুলে পচা-কাঁচা কলা, মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ ও নিম্নমানের রুটি দেওয়া হচ্ছে। এতে শিশুদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
তারা আরও বলেন, ‘খাবার দিলে যেন ভালো ও নিরাপদ খাবার দেওয়া হয়। তা না হলে এ ধরনের খাবার দেওয়ার প্রয়োজন নেই।’
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম সগীর বলেন, ‘শিশুদের সুস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে মানহীন খাবার সরবরাহের কোনো সুযোগ নেই। কিছু বিদ্যালয়ে খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/ এমএস