সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ব উপকূল থেকে একটি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে। জাহাজটি এখন ইরানের জলসীমার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের সমুদ্র নিরাপত্তা নজরদারি সংস্থা ইউকেএমটিওর বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
ইউকেএমটিও জানায়, ফুজাইরাহ বন্দরের উত্তর-পূর্বে প্রায় ৩৮ নটিকাল মাইল দূরে অবস্থানরত জাহাজটিতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা উঠে নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে জাহাজটি ইরানের জলসীমার দিকে অগ্রসর হতে দেখা যায়। তবে জাহাজটির নাম প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনায় এখনও কেউ দায় স্বীকার করেনি।
ইরানের হুঁশিয়ারির মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ফুজাইরাহকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে গোপন যোগাযোগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসরাইলের সাথে ‘যোগসাজশ’ না করতে উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেন। যদিও তিনি সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম উল্লেখ করেননি, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় বলেন, ‘বিভাজন তৈরির জন্য ইসরায়েলের সাথে সহযোগিতা করলে তার জবাবদিহি করতে হবে।’
এই মন্তব্যের পরই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে বিবৃতিতে দাবি করা হয়, তিনি গোপনে আমিরাত সফর করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’-এর মধ্যেই নেতানিয়াহু আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন।’
ইসরাইলের দাবি, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ হয়েছে।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত দ্রুতই সেই দাবি নাকচ করে দেয়। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘ঘোষণাবিহীন কোনো সফর বা গোপন সমঝোতার দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরাহ সম্প্রতি বারবার আলোচনায় এসেছে। পারস্য উপসাগরের বাইরে অবস্থিত এই বন্দরনগরী আমিরাতের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্রগুলোর একটি। ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের সময় এলাকাটি একাধিক হামলার শিকার হয়েছে।
এর পূর্বে, ফুজাইরাহর পেট্রোলিয়াম ইন্ডাস্ট্রিজ জোনে ইরানি ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যায়। ওই হামলায় ৩ ভারতীয় নাগরিক আহত হন বলে জানা গেছে।
সূত্র : এএফপি
কেকে/এমএ