পবিত্র হজ পালনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সৌদি আরব পৌঁছেছেন বাংলাদেশের ৫৬ হাজার ৬৫৯ জন; তাদের মধ্যে ১৪ জন সেখানে মারা গেছেন। গত ১৮ এপ্রিল থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত ২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে সরকারি মাধ্যমে ৪ হাজার ৪৪৪ জন ও বেসরকারি মাধ্যম অর্থাৎ হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৫২ হাজার ১১৫ জন সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।
শুক্রবার (১৫ মে) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সবশেষ বুলেটিনে এসব তথ্য জানারেনা হয়েছে।
১৪৬টি ফ্লাইটে এসব হজযাত্রী সৌদি আরবে পোঁছান। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৭২টি ফ্লাইটে ২৮ হাজার ৪৪৮ জনকে, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৫২টি ফ্লাইটে ১৯ হাজার ৩৫২ জনকে ও ফ্লাইনাস এয়ার ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৮৫৯ জন হজযাত্রীকে পৌঁছে দিয়েছে।
এ বছরের প্রাক হজ ফ্লাইটে সরকারি মাধ্যমের শেষ ফ্লাইটটি গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সৌদি আরব পৌঁছায়।
বুলেটিনে বলা হয়, ‘‘হজযাত্রীদের আবাসন, পরিবহন, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা যথাযথভাবে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট টিম ‘সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে’ দায়িত্ব পালন করছে।’’
এ বছর এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে গিয়ে যে ১৪ হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে মক্কায় ১১ জন ও মদিনায় তিনজন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী।
সবশেষ মঙ্গলবার (১২ মে) নাসরীন জাহান নামে ৩৭ বছর বয়সী একজন হজযাত্রী মদিনায় মারা যান। তার বাড়ি গাজীপুর সদর থানার চান্দনার বারোবাইকা এলাকায়। গত ২৬ এপ্রিল সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি জেদ্দায় পৌঁছান।
তার স্বামী ও হজকর্মীদের বরাত দিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, ‘নাসরীন মক্কায় পোঁছানোর পর থেকেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ১২ মে তিনি মক্কা থেকে মদিনায় যান। সেখানে পৌঁছেই তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়।’
তার স্বামী তাকে মদিনার হারাম হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ভর্তি থাকা অবস্থায় স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৭ মিনিটে তিনি মারা যান। পরদিন ভোরে মদিনাতেই তার দাফন সম্পন্ন হয়।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে হজে গিয়ে ৪৮ জন সৌদি আরবে মারা গিয়েছিলেন। এর আগের বছর মারা যান ৬৫ জন হজযাত্রী। ২০২৩ সালে কয়েকবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৩ জন হজযাত্রী মারা গিয়েছিলেন।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করতে পারবেন। এদের মধ্যে সরকারি মাধ্যমে যেতে পারবেন ৪ হাজার ৫৬৫ জন ও হজ এজেন্সির মাধ্যমে যেতে পারবেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন।
৩০টি লিড এজেন্সি এ বছর বাংলাদেশ থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া প্রাক-হজ ফ্লাইট শেষ হবে আগামী ২১ মে। প্রি-হজ ফ্লাইট ২০৭টি; এর মধ্যে বিমান ১০২টি, সৌদিয়া ৭৫ টি ও ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে; যা শেষ হবে ৩০ জুন।
কেকে/এমএ