এ বছর কুরবানির পশুর চামড়া সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া বিক্রি করতে পারবেন। এক্ষেত্রে অসাধু দালালদের দৌরাত্ম্য সহ্য করা হবে না। তাদের হাত ভেঙে দেওয়া হবে।’
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আজ রবিবার (১৭ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ‘কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে আলেম-ওলামার করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ ও ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন’ যৌথভাবে এর আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী কুরবানির চামড়া সংরক্ষণ ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই তিনি চেষ্টা করে আসছেন যেন কুরবানির চামড়ার সঠিক মূল্য পাওয়া যায় এবং মাদরাসাগুলো এ থেকে উপকৃত হতে পারে।’
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, মাদরাসাগুলো যেন কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয় এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার না করা হয়।’’
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘‘অতীতে অনেক সময় দেখা গেছে চামড়ার দাম না পেয়ে মানুষ তা ফেলে দিয়েছে বা নষ্ট করেছে। এমন পরিস্থিতি যেন আর না হয়, সেজন্য সরকার ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’’
তিনি কুরবানিদাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘পশু জবাইয়ের সময় যেন সতর্কতার সঙ্গে চামড়া আলাদা করা হয়, যাতে চামড়ার গুণগত মান অক্ষুণ্ন থাকে। কারণ চামড়া কাটার সময় অসাবধানতা বা দীর্ঘ সময় ফেলে রাখলে এর মান নষ্ট হয়ে যায় এবং দাম কমে যায়।’
কাজী শাহ মোফাজ্জল বলেন, ‘কুরবানির পর দ্রুত চামড়া সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে, বিশেষ করে মাদরাসাগুলোতে পৌঁছে দিতে হবে।’
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম-ওলামারা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
কেকে/এলএ