মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
জাতীয়
মানবিক ও ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছি : সমাজকল্যাণমন্ত্রী
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শারীরিক গঠন ও মানসিক বিকাশে এবং বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে সমাজের একটি গ্রহণযোগ্য স্থানে নিয়ে যেতে চাই।”

তিনি বলেন, “বর্তমান জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাচনের অঙ্গীকার ছিল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের একটি গ্রহণযোগ্য স্থানে নিয়ে যাওয়া। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা একটি মানবিক ও ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।”

বুধবার (২০ মে) ঢাকায় সাভারে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প কাজ পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন। 

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, “বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ঢাকায় সাভারে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই ক্রীড়া কমপ্লেক্সে থাকবে বিভিন্ন দেশের মত আধুনিক স্পোর্টস লার্নিং, মেডিকেল ফিজিওথেরাপি, জেমনেশিয়াম, সুইমিং পুল, মসজিদ, ইনডোর, আউটডোর গেমিংয়ের ব্যবস্থা।”

মন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়ে, শারীরিক প্রতিবন্ধী, মানসিক প্রতিবন্ধী, সাইকোলজিক্যাল ও ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধীসহ প্রায় ১১ ধরনের প্রতিবন্ধী রয়েছে। এই প্রতিবন্ধীদের খেলাধুলার জন্য সারা পৃথিবীতে আলাদা অলিম্পিক হয়, যেটাকে বলা হয় প্যারা অলিম্পিক।”

তিনি বলেন, “আমাদের দেশে প্রতিবন্ধীদের খেলাধুলার জন্য উপজেলা, জেলা এবং জাতীয় পর্যায়ে খেলাধুলায় দক্ষ করে তাদের তৈরি করা যায়, সেই লক্ষ্যেই কাজ হচ্ছে। আমাদের দেশের অনেক প্রতিবন্ধী আন্তর্জাতিক এরা অলিম্পিকে খেলায় অংশগ্রহণ করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেছে। অনেকে স্বর্ণপদকও বিজয়ী হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই তাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে এমনভাবে গড়ে তুলতে, যাতে সমাজে তারা গ্রহণযোগ্য অবস্থানে যেতে পারে, দক্ষতা অর্জন করতে পারে। এজন্য স্কুল, শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পাশাপাশি তাদের শারীরিক গঠন ও খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করার জন্য এই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।”

“প্রকল্পটি নেওয়ার পর মাঝখানে কিছু জটিলতার কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিবন্ধীদের ব্যাপারে যে নির্বাচনি কমিটমেন্ট ছিল, সে অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা একটি মানবিক ও ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ গড়তে চাই । সমাজের অন্যান্য ছেলেমেয়েরা যেভাবে গড়ে ওঠে, আমরাও চাই আমাদের প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েরা একইভাবে গড়ে উঠুক”, তিনি যোগ করেন।

মন্ত্রী বলেন, “এই প্রকল্পে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা এবং জাতীয় পর্যায়ে আয়োজনের ব্যবস্থা থাকবে। প্রচলিত খেলাধুলার পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি, আউটডোর ও ইনডোর প্লেগ্রাউন্ড থাকবে, যাতে তারা প্রশিক্ষণ নিতে পারে। এবং এটি যেন আশেপাশের দেশের মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেই লক্ষ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে—ইনশাআল্লাহ।”

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, “আজকে আমরা সরেজমিনে পরিদর্শনে এসেছি। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, অ্যাডিশনাল চিফ ইঞ্জিনিয়ারসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা, স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিরা, যারা সবসময় প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছেন, সবাইকে নিয়ে আমরা প্রকল্পটি ঘুরে দেখেছি।”

তিনি বলেন, “প্রকল্পের ইনডোর আউটডোর গেমিংয়ের সুযোগ-সুবিধা, কীভাবে এটাকে আরও যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করা যায়, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। কারণ প্রকল্পটি ২০২১ সালে নেওয়া হলেও ২০২৬ সাল পর্যন্ত এসে মাত্র ১০ শতাংশ কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। এর বিভিন্ন কারণ আছে। প্রকল্পটি নেওয়ার পরও কার্যক্রম শুরু হয়নি, মাঝখানে কিছু জটিলতার কারণে কাজ বন্ধ ছিল। এখন আবার কাজ শুরু হয়েছে। আমরা আশাবাদী, আগামী দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে।”

“এটা নদীর পাড়ে সুন্দর পরিবেশে বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয় ও পিডব্লিউডির পক্ষ থেকে সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জনপ্রতিনিধিদেরও কিছু সহযোগিতা প্রয়োজন হবে, বিশেষ করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে। পিডব্লিউডিও সবসময় কাজটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার দায়িত্বে রয়েছে। তাদের প্রতি যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা সে অনুযায়ী কাজ করছে। আমরা আশাবাদী, এখন থেকে সবাই নতুন উদ্যমে কাজ করে সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করতে পারব”, তিনি যোগ করেন।

দুর্নীতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “আপনি যে এ প্রকল্পের দুর্নীতির প্রশ্ন তুলেছেন, এখানে এখন পর্যন্ত এমন কোনো ক্রয় প্রক্রিয়ায় যাওয়া হয়নি। শুধু বিল্ডিং নির্মাণের কাজ হচ্ছে এবং সেটার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টকে। এটা সরকারি সংস্থা। এখানে কোনো লোক নিয়োগ হয়নি, আসবাবপত্র কেনা হয়নি, অন্য কোনো আইটেমও কেনা হয়নি। তবে যেকোনো ধরনের দুর্নীতির ব্যাপারে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্সে আছে।”

“কোনো দুর্নীতি আমরা সহ্য করব না, সামনে হোক বা পেছনে হোক। আপনাদের কাছে যদি কোনো তথ্য থাকে, অবশ্যই জানাবেন, আমরা তদন্ত করব। কেউ দুর্নীতি করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরাও করব না, কাউকেও করতে দেব না। তবে এফিশিয়েন্সির বিষয়টি মানুষভেদে ভিন্ন হতে পারে। যেহেতু প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৬ থেকে ১০ শতাংশ, তাই আপনারা যে দুর্নীতির কথা বলেছেন, সেটা আমরা খতিয়ে দেখব”, তিনি যোগ করেন।

তিনি বলেন, “আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, দুর্নীতির ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। আমি নিজে হলেও ছাড় পাব না, আমারও ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই। কাজেই দুর্নীতির বিষয়ে আমরা অত্যন্ত কড়া অবস্থানে।”

কেকে/এজে


আরও সংবাদ   বিষয়:  মানবিক   ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ   সমাজকল্যাণমন্ত্রী  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close