মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের তেহরানে যাওয়ার খবর এসেছে। শান্তি আলোচনার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তিকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স লিখেছে, ‘প্রতিনিধি দলটি শুক্রবার (২২ মে) তেহরানে পৌঁছায়।
এদিকে, একই দিন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের তেহরান পৌঁছানোর খবর দিয়েছে আরেক সংবাদমাধ্যম আল-অ্যারাবিয়া।
আলোচনায় ‘কিছুটা অগ্রগতি’ হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর এমন বক্তব্যের মধ্যে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ও কাতারের কূটনীতিকদের তেহরান সফরের সংবাদ এল।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রুবিও বলেন, ‘কিছু ভালো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে অতিরিক্ত আশাবাদী হতে চাই না। তাই দেখা, সামনের কয়েকটা দিন কী ঘটে।’
একই দিন ইরানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, কোনো চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য কমে এসেছে। ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রকল্প এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় মতবিরোধ রয়ে গেছে।’
গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে হামলা শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের। নিহতের তালিকায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও আছেন।
এদিকে, পাল্টা হামলায় ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাকে নিশানা বানিয়েছে ইরান। জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রায় এক ডজন দেশে হামলা চালিয়েছে তারা।
এ যুদ্ধে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান পরিবহন ব্যবস্থা; হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে। যুদ্ধের ৪০ দিনের মাথায় গেল ৮ এপ্রিল ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় ২ দেশ। সেই দুই সপ্তাহ শেষ হওয়ার ঘণ্টা কয়েক আগে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
কিন্তু যুদ্ধবিরতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালি ঘিরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবরোধ ও অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। মাঝে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চললেও এখনও দুই পক্ষের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়নি।
কেকে/এমএ