বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত বৃহত্তর নোয়াখালীর (নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর) সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত হয়েছে নতুন সংগঠন ‘বৃহত্তর নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিটি’। আগামী এক বছরের জন্য বাংলাভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার কেফায়েত শাকিলকে সংগঠনটির আহ্বায়ক এবং ঢাকা মেইলের মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ আবদুল হামিদ রনিকে সদস্যসচিব করে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টনে হোটেল ওয়েস্টনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আহ্বায়ক কমিটির নাম ঘোষণা করেন বার্সেলোনা গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল হালিম মানিক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সংগঠনটির সার্বিক সাফল্য ও উত্তরোত্তর অগ্রগতি কামনা করেন। একইসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠা, সততা ও বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে পালন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি ও জনদুর্ভোগ তুলে ধরার পাশাপাশি উন্নয়ন ও সম্ভাবনার চিত্রও গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা একটি গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সাংবাদিকদের সাহসিকতা, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।’ এ সময় তিনি সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে জনস্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান এবং সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
পরিচিতি সভায় বক্তারা জানান, দেশ ও প্রবাসের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের সৎ, উদ্যমী এবং সাহসী সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করতেই এই সংগঠনের পথচলা শুরু হয়েছে।
সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বিষয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, এটি কোনো নামসর্বস্ব বা গতানুগতিক ধারার সংগঠন হবে না। কর্মক্ষেত্রে সাংবাদিকদের মানোন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করা, সাংবাদিকতা পেশায় নবাগতদের সঠিক গাইডলাইন দেওয়া এবং সুখে-দুঃখে বৃহত্তর নোয়াখালীর সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোই এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের সমস্যা, সম্ভাবনা ও সামগ্রিক উন্নয়নে সংগঠনটি জোরালো ভূমিকা পালন করবে।
এ সময় আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা বলেন, ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা, পেশাগত মানোন্নয়ন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো এবং হঠাৎ চাকরি হারালে সংগঠনটিকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেও সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
সংগঠনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা হলেন—সোলাইমান হাজারী ডালিম (এখন টেলিভিশন), সবুজ আলম ফিরোজ (দৈনিক ইত্তেফাক), শাহরিয়ার হাসান (চ্যানেল ওয়ান), ফয়সাল মাহমুদ (যমুনা টেলিভিশন), আশরাফুল আমীন (দৈনিক আমার দেশ), আবদুল আজীজ জুয়েল (সময় টিভি), মোজাম্মেল হোসেন (প্রাইম নিউজ), ওয়ালিদ সাকিব (স্টার নিউজ), হারুন অর রশিদ (বিডি২৪লাইভ), রাকিব হোসেন আপ্র (একাত্তর টেলিভিশন), আবদুল্লাহ আল জাহেদ (দৈনিক খোলা কাগজ), আল আমীন ফয়সাল (রেডিও ক্যাপিটাল), জুনাইদ আল হাবিব (দৈনিক কালের কন্ঠ), আবদুর রাজ্জাক (অর্থ দিগন্ত), সাদ্দাম হোসেন (বিটিভি), সাইফুল ইসলাম (প্রবাসের সাতকাহন), খলিলুর রহমান সোহেল (জিটিভি)।
কমিটিতে আরও রয়েছেন—মোরশেদ আলম (বাংলাভিশন), আবদুর রহমান (দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস), মাহমুদ বাপ্পি (প্রবাস কথা), মিফতাহ উদ্দিন গালিব (জিটিভি), রহমত উল্লাহ (সময়ের কন্ঠস্বর), আবদুল্লাহ আল নোমান (দৈনিক প্রথম আলো), মাহবুবুর রহমান (ঢাকা মেইল), মাসুদ সালেম (এনটিভি), আবুল কালাম (দৈনিক কালবেলা), জায়েদুল হক সোহেল (দেশ টিভি), হোসাইন মাহমুদ (দৈনিক নিরপেক্ষ), আমির হোসেন ফরহাদ (এশিয়া পোষ্ট), জাহিদ হোসেন রাজন (এনটিভি), মুহাম্মদ আজহার (দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস), মিরাজ উদ্দিন (বিটিভি), আবদুল কবির ফারহান (বনিক বার্তা), ইমরান হোসেন (গ্লোবাল টেলিভিশন), ইমাম উদ্দিন (নোয়াখালী টিভি), মাহবুবুর রহমান (এনপিবি) ও ইমতিয়াজ (এশিয়া পোস্ট)।
কেকে/এজে