ক্রমবর্ধমান জটিল পরিবেশে বাড়তে থাকা ঝুঁকির কারণে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। সারা দেশে গণমাধ্যমকর্মীরা হামলা, ভীতি প্রদর্শন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে; যেখানে কার্যকর সুরক্ষা, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। পাশাপাশি নারী সাংবাদিকরা অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই ঝুঁকির মুখে থাকেন, যার খবরগুলো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় না।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে সোমবার (১৩ জুলাই) ঢাকায় কুইক রেসপন্স সাপোর্ট (কিউআরএস) টিমের সদস্যদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া সাপোর্টের (আইএমএস) সহায়তায় বেসরকারি অ্যাডভোকেসী প্রতিষ্ঠান ভয়েস এই সভার আয়োজন করে। আলোচনায় সদস্যরা সকল অংশীজনের সমন্বয়ের ওপর জোর দেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সভায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামিস্ট সোহরাব হাসান বলেন, “সাংবাদিকদের কণ্ঠস্বর দমন করা মানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারকে ক্ষুণ্ন করা। তাই মানবাধিকার রক্ষা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে সাংবাদিক এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।”
মিডিয়া ব্যক্তিত্ব দীপ্তি চৌধুরী বলেন, “নারী মিডিয়াকর্মী হিসেবে আমরা অনলাইন ও অফলাইন- উভয় ক্ষেত্রেই হয়রানির শিকার হই। পেশাগত কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আক্রমণ, ডক্সিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া এবং এমনকি জীবননাশের হুমকিরও মুখোমুখি হতে হয়। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।”
ভয়েসের উপ পরিচালক (প্রোগ্রামস) মুশাররাত মাহেরা বলেন, “কিউআরএসের সদস্যরা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া সহিংসতা চিহ্নিতকরণ, নথিভুক্তকরণ ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সহায়তা ও ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখাই তাদের লক্ষ্য।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য আইএমএস বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাখাওয়াত হোসাইন, সাংবাদিক আজিজুল পারভেজ, ইসমাইল হোসেন, অধিকারকর্মী শারাবান তহুরা, উন্নয়ন পরামর্শক মনজুর রশীদ, ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমু্দ, ব্লাস্টের প্রতিনিধি আহমেদ তৌফিকুর রহমান প্রমুখ।
অংশগ্রহণকারীরা সাংবাদিকদের ওপর চলমান হুমকি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, হয়রানি ও নারী সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সাংবাদিক, আইন বিশেষজ্ঞ ও অধিকারভিত্তিক সংগঠনগুলোর মধ্যে টেকসই সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় সোচ্চার ও সক্রিয় থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
কেকে/এমএ