বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জারুলিয়াছড়ি সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)। এ ঘটনায় ৯ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার সংখ্যা ২৯ হাজার ৯৭৮ পিস। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮৯ লাখ ৯৩ হাজার ৪০০ টাকা।
শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় জারুলিয়াছড়ি বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে ৯ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতের দিকে সীমান্ত পিলার ৪৭/১-এস সংলগ্ন এলাকায় পুনরায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে চোরাকারবারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তাদের ফেলে যাওয়া তিনটি কার্টন তল্লাশি করে ২৯ হাজার ৯৭৮ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে খয়েরি রঙের ২৯ হাজার ৬৭৫ পিস এবং সবুজ রঙের ৩০৩ পিস ইয়াবা ছিল।
আটককৃতরা হলেন— আব্দুর রফিক (৩০), নুর মোহাম্মদ (২৮), শহিদুল আমীন (১৯), নুর মোহাম্মদ (৩০), ইকবাল হোসেন (৩০), খালেক হোসেন (৩৩), আহসান হাবিব (২৪), আরব (২০) ও হাসোন আলী (২৬)। তারা সবাই কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ চক্র সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা চালায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে একের পর এক মাদকের চালান আটক হচ্ছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির পিএসসি, ইঞ্জিনিয়ার্স বলেন, “সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। জব্দকৃত ইয়াবাসহ তাদের নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হস্তান্তর করা হবে।”
কেকে/ এমএস