চসিক মেয়রকে মশা নিধনের উপায় বলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
খোলা কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৩:২৮ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
মশা মারার ‘আধুনিক ও উদ্ভাবনী’ কায়দা শিখতে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে মার্কিন মুলুকে যাওয়ার শখ জেগেছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তার। কিন্তু মশা মারার নামে এই প্রমোদ ভ্রমণের ফাইলে এক কলমের খোঁচায় লাল বাতি জ্বালিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুধু সফর বাতিলই করেননি, চসিকের কর্তাদের উদ্দেশ্যে এক চরম চটকদার ও রসালো পরামর্শও দিয়েছেন দেশের সরকারপ্রধান। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, মশা নিধন শেখার জন্য ট্যাক্সপেয়ারদের বা স্পনসরদের টাকায় ফ্লোরিডা যাওয়ার কোনো দরকার নেই; দেশেই সন্ধ্যার পর যে কোনো ডোবার পাশে দু’তিন ঘণ্টা চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলেই মশা মারার হরেক রকম ‘উদ্ভাবনী কায়দা’ মাথায় চলে আসবে!
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সোমবার রাতে এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তের কথা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে। স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন ‘তেতো কিন্তু সত্য’ দাওয়াই পেয়ে মায়ামি বা শিকাগোর টিকিট কাটার স্বপ্ন আপাতত ভেস্তে গেছে চসিকের প্রতিনিধিদলের।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এই সফরের ছাড়পত্র না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সূত্র থেকে জানা গেছে, মশা নিধনের আধুনিক প্রযুক্তি দেখতে চসিকের এই ভিভিআইপি প্রতিনিধিদলটি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি বিশেষ কীটনাশক কারখানা এবং ল্যাব পরিদর্শন করতে চেয়েছিল।
এই সফরের পুরোভাগে ছিলেন স্বয়ং মেয়র শাহাদাত হোসেন। তার সঙ্গীর তালিকায় নাম লিখিয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির চৌধুরী এবং ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম। এমনকি সফরটি যাতে মসৃণ হয়, সেজন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন আমলাকেও এই দলে ভেড়ানোর লোভনীয় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
ছবি : সংগৃহীত
বিদেশি কীটনাশক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেসের অর্থায়নে এই প্রমোদ ভ্রমণের সব বন্দোবস্ত পাকা করা হয়েছিল। এরপরই চসিকের এই পাঁচ কর্মকর্তার ফ্লোরিডা সফরের ফাইলটি অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সারসংক্ষেপ হিসেবে পাঠানো হয়। আর তা দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, ফাইলটি দেখার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি নির্দেশনা দেন, ‘মশকনিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার দরকার নেই। দেশেই সন্ধ্যার পর যে কোনো ডোবার পাশে দু–তিন ঘণ্টা অবস্থান করলেই মশক নিধনের অনেক উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব হবে’।
দেশের মশার কামড় না খেয়ে আমেরিকার সমুদ্র সৈকতে মশা মারার বুদ্ধি খোঁজার বিলাসী মানসিকতাকে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে কটাক্ষ করেছেন, তা ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে তুমুল প্রশংসিত হচ্ছে।
চসিকের একজন কর্মকর্তা অবশ্য জানিয়েছেন, মশা নিধনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ইতিমধ্যেই প্রায় পৌনে চার কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধব জৈব কীটনাশক ‘বিটিআই’ (বাসিলাস থুরিনজেনসিস ইসরায়েলেনসিস) কিনেছে এবং বর্তমানে নগরীতে এই ওষুধ ব্যবহার করাও হচ্ছে।
এখন চার কোটি টাকার ওষুধ ছিটানোর পর মেয়রের দল ডোবার পাশে বসে মশা মারার ‘স্বদেশী ফর্মুলা’ আবিষ্কার করবেন, নাকি মশার কামড় খেয়ে ডেঙ্গু বাঁধিয়ে বসেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়!