বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বাংলাদেশের বোলিং কোচের দায়িত্ব ছাড়লেন শন টেইট      বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ তুলে নিল সরকার      কমানো হলো লাইফলাইন গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম      ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় রোববার      যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা      নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে সতর্কবার্তা আলজেরিয়ার      
জাতীয়
স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিতের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৭:৪৩ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

বর্তমানে পৃথিবী ভয়াবহ জলবায়ু সংকটের মুখোমুখি। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও তা বেশিরভাগ প্রকল্প ভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদী নয়। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর সুফল সাধারণ জনগণ পান না। স্থানীয় সমস্যা সমাধানে স্থানীয় জনগণের মতামত নিয়ে পরিকল্পনা ও নীতিমালা গ্রহণ করা হলে পরিবেশ সুরক্ষায় টেকসই ফলাফল অর্জন সম্ভব। এছাড়া সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি, বেসরকারি সংগঠন, পরিবার, নারী, শিশু, তরুণসমাজের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ১১টায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশন (সিডাব্লিউএফ), ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ (আইডাব্লিউবি) এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্টের সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত “জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ আগামীর নিরাপত্তা” শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর পরিচালক গাউস পিয়ারীর সভাপতিত্বে এবং প্রজেক্ট ম্যানেজার নাঈমা আকতার এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত প্রধান অতিথি ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান। অতিথি আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের প্রফেসর ড. আকতার মাহমুদ, চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের (সিডাব্লিউএফ) চেয়ারম্যান শাহ ইসরাত আজমেরি এবং পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ্ সুমন।

মেজবাহ্ সুমন বলেন, ‘জলবায়ু বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের প্রান্তিক জনগণ, নারী, শিশু ও তরুণ প্রজন্ম। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে সুপেয় পানির সংকট তৈরি হচ্ছে এবং কৃষি উৎপাদন কমে যাচ্ছে। বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলবায়ু সংকটের কারণে নানা তহবিল গঠন করা হলেও সেই অর্থ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণের কাছে সেভাবে পৌঁছায় না। স্থানীয় সমস্যা সমাধানে স্থানীয় জনগণের মতামত নিয়ে পরিকল্পনা ও নীতিমালা গ্রহণ করা হলে পরিবেশ সুরক্ষায় টেকসই ফলাফল অর্জন সম্ভব।’

শাহ ইসরাত আজমেরি বলেন, ‘জলবায়ু সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে নারী ও শিশুরা। যার ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব পরছে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর। শিশুদের পরিবার থেকেই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের শিক্ষা দিতে হবে। ব্যক্তিপর্যায়েও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। প্রতিটি মানুষ যদি অন্তত একটি করে গাছ লাগায় এবং তা পরিচর্যা করে, তবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বড় অবদান রাখা যাবে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে পরিবেশ শিক্ষা ও জলবায়ু সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ‘জলবায়ু বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জনগণ শহরমুখী হচ্ছে। শহরের উপর বিশাল জনগোষ্ঠীর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা উন্নয়নের যথার্থ দর্শন বিবেচনায় না নিয়ে তথাকথিত উন্নয়নের নামে ফিক্সড গ্লাস ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক দালান নির্মান করছি। মাঠ-পার্ক-জলাধার দখল ভরাট করে ফেলছি। এর ফলে শহরের জলাবদ্ধতা, তাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ নানাবিধ জনদূর্ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবেশগত বিপর্যয় আমাদের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও ব্যর্থতারই সামগ্রিক চিত্র। যে উন্নয়ন হয়ে গেছে তা পুরোপুরি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব প্রশমিত করার লক্ষ্যে সবুজায়ন, গণপরিসর, জলাধার বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।’

আনিছুর রহমান (এমপি) বলেন, ‘পরিবেশ উন্নয়নে ইতোমধ্যেই সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জলাবদ্ধতা নিরসন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ বান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থা, নগরের সবুজায়ন, মাঠ পার্ক সংরক্ষণে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শিল্প কারখানায় বর্জ্য অপসারণ, নদী দখলমুক্তকরণ, নদী ভাঙ্গন প্রতিহত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, জলাশয় সংরক্ষণে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সরকার টেকসই অবকাঠামো গঠন, পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের উপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু সরকারের একার পক্ষে এসব কাজ করা সম্ভব নয়। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী প্রজন্মের জন্য টেকসই বাংলাদেশ গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

গাউস পিয়ারী বলেন, ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা জরুরি। শহরমুখী পরিকল্পনা থেকে বের হয়ে এসে বিকেন্দ্রীকরণকে গুরুত্ব দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন কেবলমাত্র পরিবেশগত বিষয় নয় বরং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি সর্বোপরি টেকসই উন্নয়নের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। “জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ আগামীর নিরাপত্তা” শুধু একটি প্রতিপাদ্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখার একটি জরুরি আহ্বান। আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে একটি নিরাপদ ও সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।’

কেকে/এজে


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close