সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: পুলিশ টিমকে একসঙ্গে চা বা বিশ্রামে না যাওয়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর      ডিএসইর গণছাঁটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, দাবি কর্মকর্তাদের      দেশকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী      অনুসন্ধানে অবহেলার মাশুল দিচ্ছে দেশ      আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না : ট্রাম্প      নতুন নীতিমালায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু      মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ      
জাতীয়
সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক মঙ্গলবার
খোলা কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫৬ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বিরোধী দল যোগ না দেওয়ায় অবশেষে ১২ সদস্য নিয়েই সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কমিটির সভাপতি সালাউদ্দিন আহমদ। 

সংসদ সচিবালয় জানায়, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বৈঠক শুরু হবে। বিরোধী দল কমিটিতে যোগ দেয়নি। ফলে ১২ সদস্যের কমিটি নিয়ে প্রথম বৈঠক শুরু হচ্ছে।

সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, পরিচিতি ও পরবর্তী বৈঠকের আলোচনার বিষয় নির্ধারণের মধ্যে হয়ত প্রথম দিনের বৈঠক সীমাবদ্ধ থাকবে। দ্বিতীয় বৈঠক থেকে সংবিধান সংশোধন নিয়ে কার্যকর আলোচনা হবে। 

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের দাবির ধারাবাহিকতায় সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেয় বর্তমান সরকার। সংবিধানের বিভিন্ন বিধান, বিশেষ করে ক্ষমতার ভারসাম্য, নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্ব, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিয়ে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা চলে আসছিল। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়। গেল ১৩ জুলাই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার দাবি করে আসছিল।

কমিটি গঠনের দিন সংসদে দাঁড়িয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছিলেন, ‘বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনে কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৬ বিধি মোতাবেক প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংসদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং জোটের সদস্যদের সমন্বয়ে এমনকি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত একটি কমিটি গঠনে উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যে বিরোধীদলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের কাছ থেকে এই অধিবেশনে নাম পাওয়ার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় দেরি হয়। ইতোমধ্যেই কয়েক দফা এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, কিন্তু তারা এখনও কোনও নাম আমার কাছে দেননি। এমন অবস্থায় আমরা ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

প্রস্তাবিত কমিটির কাঠামো তুলে ধরেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, বিএনপি থেকে সাতজন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি থেকে একজন, গণসংহতি আন্দোলন থেকে একজন, গণঅধিকার পরিষদ থেকে একজন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে একজন, স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্য থেকে একজন, বিরোধী দল থেকে পাঁচজন। এই নিয়ে ছিল মোট ১৭ জন।

১৭ জনের মধ্যে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি পদ শূন্য রেখে গত ১৩ জুলাই ১২ সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ। বিরোধী দলের কাছ থেকে নাম পাওয়া গেলে তাদের পাঁচজনকে অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি পুনর্গঠন করা হবে বলেও জানান। জাতীয় সংসদে ওই দিন ১২ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়।

কমিটির সভাপতি কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। কমিটির সদস্যরা হলেন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য চিফ হুইপ মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম, ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ, পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল হক, চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য ফারজানা শারমিন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শাকিলা ফারজানা, শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাহমুদুল হক রুবেল ও বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ অলিউল্লাহ।

বিরোধী দলের দাবি ছিল, সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কারের জন্য কমিটি গঠন করতে হবে। কিন্তু সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির প্রস্তাব এবং পাস করার কারণে এর বিরোধিতা করে তারা। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি গঠনের বিরোধিতা করে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী জোটের সব সংসদ সদস্য সংসদ অধিবেশন ছেড়ে চলে যান।

গেল ১ জুলাই বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জানিয়েছিলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে যে সংস্কার সনদ (চার্টার) তৈরি হয়েছিল, তার ভিত্তিতে জনগণ গণভোট বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সরকার সেই রায় বাস্তবায়ন করেনি। সংশোধন নয়, সংবিধান সংস্কারে সংসদে সুযোগ না পেলে জনগণের কাছেই যাবো এবং জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

শফিকুর রহমান ওই দিন আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সরকার জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে। দীর্ঘ আলোচনা শেষে ৩১টি দৃশ্যমান রাজনৈতিক সংগঠন একটি সংস্কার সনদে একমত হয়।’

তার দাবি, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি ছাড়া বাকি সব দল শেষ পর্যন্ত ওই সনদে সই করেছে। একই দিনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে অর্থবহ করার বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের অঙ্গীকার ছিল। গণভোটে যে রায় আসবে, তা সবাই মেনে নেবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই রায়ের ভিত্তিতে একটি সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল এবং সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের পাশাপাশি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  সংবিধান সংশোধন কমিটি   জাতীয় সংসদ   সালাউদ্দিন আহমদ   বিরোধী দল  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close