সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: ডিএসইর গণছাঁটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, দাবি কর্মকর্তাদের      দেশকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী      অনুসন্ধানে অবহেলার মাশুল দিচ্ছে দেশ      আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না : ট্রাম্প      নতুন নীতিমালায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু      মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ      ঢাবিতে ভর্তি আবেদন ১১ নভেম্বর থেকে, পরীক্ষা শুরু ৫ ডিসেম্বর      
অর্থনীতি
ডিএসইর গণছাঁটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, দাবি কর্মকর্তাদের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৪ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাম্প্রতিক গণছাঁটাইকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কিছু কর্মকর্তা। তাদের দাবি, এ ছাঁটাই প্রশাসনিক প্রয়োজনে নয়; বরং পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পিত উদ্যোগ। একই সঙ্গে ডিএসই কর্তৃপক্ষের প্রেস রিলিজে দেওয়া ব্যাখ্যাকে বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে ছাঁটাই আদেশ প্রত্যাহার এবং চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন তারা।

রোববার (২ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে কর্মকর্তারা বলেন, ডিএসই কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক চাকরিচ্যুতির বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা দেশের পুঁজিবাজারের জন্য বিভ্রান্তিকর। তাদের দাবি, এ সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক বা ব্যবসায়িক প্রয়োজনের কারণে নেওয়া হয়নি; বরং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং এটি পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীল করার একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ডিএসই কর্তৃপক্ষ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৬ অনুযায়ী চাকরির অবসান ঘটানোর কথা বললেও, এটিকে ২০২২ সালের দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এ ছাঁটাই কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ নয়; বরং এটি হঠাৎ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ছাঁটাইয়ের জন্য ব্যবহৃত তালিকাটি নতুন কোনো মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়নি। বরং এটি ২০২২ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকার ওই তালিকাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিবেচনায় বাস্তবায়ন করেনি। তবে বর্তমান ডিএসই পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সেই তালিকাই বাস্তবায়ন করছে।

জনবল কমানোর বিষয়ে ডিএসইর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন কর্মকর্তারা। তাদের মতে, মাত্র ১৭ জন বা মোট জনবলের ৫ শতাংশের কম কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে বলে বিষয়টিকে ছোট করে দেখানোর সুযোগ নেই। দক্ষ কর্মীদের এভাবে সরিয়ে দেওয়া পুঁজিবাজারের মতো স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হবে এবং এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও দুর্বল হতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শ্রম আইন অনুযায়ী কারণ প্রদর্শন ছাড়াই চাকরির অবসানের সুযোগ থাকলেও, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুরোনো একটি তালিকা বাস্তবায়ন করা নৈতিকতা ও আইনের অপব্যবহারের শামিল। তাদের অভিযোগ, এ সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক স্বার্থে নয়; বরং রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

ডিএসইর কর্মকর্তা বৃন্দ দাবি করেন, বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এ গণছাঁটাই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের ভাষ্য, ২০২২ সালে প্রস্তুত করা যে তালিকা অন্তর্বর্তী সরকার বাস্তবায়ন করেনি, সেটিই বর্তমানে কার্যকর করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং পুঁজিবাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

বিবৃতিতে ডিএসই কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে ছাঁটাই আদেশ প্রত্যাহার, চাকরিচ্যুত দক্ষ কর্মীদের পুনর্বহাল এবং পুঁজিবাজারে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশের পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ডিএসইকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান তারা।

উল্লেখ্য, এর আগে ডিএসই কর্তৃপক্ষ এক প্রেস রিলিজে জানায়, শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৬ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সীমিতসংখ্যক কর্মীর চাকরির অবসান ঘটানো হয়েছে।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ডিএসই   গণছাঁটাই  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

অর্থনীতি- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close