এবার মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত দেখালো খুলনা বিভাগের মাগুরা জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পঞ্চাশোর্ধ অর্ধশত বন্দির জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল টেস্ট। এতে তারা উৎফুল্ল হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০-১২ জনের বিভিন্ন রোগ থাকার আশঙ্কা করা হয়েছে। বুধবার টেস্টের রিপোর্ট পাওয়ার পর কারা চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী বন্দিদের ভর্তি ও ওষুধ প্রদান করা হবে। আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন এনডিসি পিএসসির নির্দেশনা অনুযায়ী মাগুরা জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ মানবিক এ কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে। এতে প্রশংসায় ভাসছে মাগুরা জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ।
সিভিল সার্জন অফিস ও মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় পঞ্চাশোর্ধ বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। প্রধান অতিথি ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির। অন্যদের মধ্যে ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহসিন উদ্দিন ফকির, জেল সুপার শেখ মো. মহিউদ্দীন হায়দার, কারা হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. এজাজ আহমেদ রোচি, ভারপ্রাপ্ত জেলার মো. জহুরুল ইসলাম, ডিপ্লোমা নার্স মো. বদিউজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পঞ্চাশোর্ধ ৪৫ বন্দির আরবিএস, লিপিড প্রোফাইল ও সিরাম ক্রিয়েটিনিন টেস্টের জন্য রক্ত সংগ্রহ ও ইসিজি করা হয়। নমুনা নেওয়া হয়েছে মাগুরা হাসপাতালে।
সূত্র জানায়, পর্যায়ক্রমে ৪৫ বন্দির বিভিন্ন টেস্টের নমুনা নেওয়া হয়। মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল থেকে বুধবার রিপোর্ট পাওয়ার পর ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী কারাভ্যন্তরে রেখে বন্দিদের চিকিৎসা দেওয়া হবে। ২-৩ জনকে কারা হাসপাতালে ভর্তি করা হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মানবিক এ কর্মকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ে। কারাগারে এ ধরণের উদ্যোগ এটিই প্রথম বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। অপরদিকে মাগুরা কারা কর্তৃপক্ষ ২ দফায় ৩ শতাধিক বন্দিকে আম. কাঠাল ও লিচু খাইয়েছেন।
মাগুরা কারাগারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পর্কে ৯৫ বছর বয়সের কয়েদি বন্দি মোহাম্মদ জলিল মোল্লা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য ও তার বর্তমান স্বাস্থ্য অবস্থা জানতে পারায় বেজায় খুশি। তিনি এ কর্মসূচি চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন। গত ১ বছর যাবত তিনি ৩০ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে আটক আছেন। ৭০ বছর বয়সের আরেক বন্দি মো. সাইফুল ইসলাম কারাভ্যন্তরে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি ২ মাস যাবত মাগুরা জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন।
সুশীল সমাজের মতে, মাগুরা কারাগারের মানবিক এ উদ্যোগ বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারাগারকে প্রকৃত সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। দেশের প্রতিটি কারাগারে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলে বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও কারাভ্যন্তরে মৃত্যুহার কমে যাবে। বন্দিরা তাদের বর্তমান স্বাস্থ্য সম্পর্কে জেনে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারবেন।
সহকারী সার্জন ডা. এজাজ আহমেদ রোচি বলেন, মাগুরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় কারাগারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচি এটিই প্রথম। আমরা কারাবন্দিদের জন্য সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই। জেল সুপার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। যখন যেভাবে সহযোগিতা চেয়েছি তা পেয়েছি। ২৫০ শয্যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বন্দিদের উন্নত চিকিৎসায় সার্বিক সহায়তা প্রদান করে থাকেন। জেল সুপার শেখ মো. মহিউদ্দীন হায়দার মঙ্গলবার রাতে দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, কারাগারে আটক ৪৫ জন সিনিয়র সিটিজেন স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অগ্রাধিকার রাখেন। আইজি প্রিজন্স মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যতিক্রমধর্মী এ কর্মসূচি নেওয়া হয়। তিনি বলেন, এর আগে মাগুরা কারাগারের স্টাফদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছিল।
জানা যায়, যে কোনো সময়ের তুলনায় ভালোই চলছে মাগুরা জেলা কারাগার। কারা অধিদপ্তরের নতুন মেনু অনুযায়ী বন্দিরা প্রতিদিনই ভালো মানের খাবার পাচ্ছেন। জেল কোড অনুযায়ী সব ধরনের সুবিধা পেয়ে বন্দিরা খুবই খুশি। কোরবানি ঈদের দিন আনন্দ উৎসবে মেতেছিলেন ৩০৪ জন বন্দি। এর মধ্যে ২৯২ পুরুষ ও ১২ জন নারী। তিন বেলা ব্যবস্থা করা হয়েছিল উন্নত খাবার। আয়োজন করা হয় বিভিন্ন খেলাধুলা। ফুল দিয়ে বরণ করে আপ্যায়ন করা হয়েছিল দর্শনার্থীদের। দুপুরে ৭৯ জন স্টাফের জন্য ব্যবস্থা করা হয় উন্নত খাবার।
কেকে/এজে