বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ      এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সাইবার নিরাপত্তা: তথ্যমন্ত্রী      ডিএমপির আওতায় আসছে পূর্বাচল, ৪টি থানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত       জাল সনদে এমপিও ভোগী ১৩ শিক্ষকের বেতন বন্ধ      পাহাড় ধসের শঙ্কায় লাখো রোহিঙ্গা      এইচএসসি পরীক্ষা শুরু আগামীকাল, সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্র      সংসদে জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস, অনলাইন বেটিংয়ে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা      
স্বাস্থ্য
প্রজ্ঞা-আত্মা’র বাজেট প্রতিক্রিয়া
তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা বাড়বে, হাতছাড়া হবে বাড়তি রাজস্বের সুযোগ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম আপডেট: ১৩.০৬.২০২৬ ৬:৩৬ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম খুবই সামান্য বাড়ানো হয়েছে এবং বিড়ি, গুল ও জর্দার দাম ও করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মুল্যস্ফীতি ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি হিসাবে আনলে এসব তামাকপণ্যের প্রকৃত দাম কমে যাবে। সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা কমানো ও সুনির্দিষ্ট শুল্কের প্রচলনসহ কর কাঠামোয় কোন ধরনের সংস্কার আনা হয়নি। প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে তামাকের ব্যবহার, তামাক ব্যবহারজনিত অসুস্থতা ও মৃ্ত্যু বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ হাতছাড়া হবে বলে মনে করে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রগতির জন্য জ্ঞান ( প্রজ্ঞা) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে বাজেট ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিবৃতিতে সংগঠন দুইটি এসব কথা বলে। 

প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরের প্রতি প্যাকেট ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ২ টাকা বৃদ্ধি করে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেট কার্যকর হলে এই স্তরে সিগারেটের দাম বাড়বে মাত্র ৩.৩৩ শতাংশ, যা ১০.২৭ শতাংশ মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম। ফলে নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রকৃত দাম ব্যাপকভাবে কমবে এবং তরুণ ও নিম্ন আয়ের জনগণের মধ্যে কমদামি সিগারেটের ব্যবহার আশঙ্কাজনকহারে বাড়বে। 

উল্লেখ্য, বর্তমানে সিগারেট বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশই নিম্ন স্তরের দখলে এবং যার প্রধান ভোক্তা মূলত দরিদ্র ও তরুণ জনগোষ্ঠী।

প্রস্তাবিত বাজেটে মধ্যম স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২ টাকা (১৫ শতাংশ), উচ্চ স্তরে ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা (১৪.২৯ শতাংশ) এবং প্রিমিয়াম বা অতি উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার দাম ১৮৫ টাকা থেকে ২১০ (১৩.৫১ শতাংশ) টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দামবৃদ্ধি নিত্যপণ্যের দামবৃদ্ধির তুলনায় খুবই সামান্য। তাছাড়া সিগারেট করকাঠামোয় কোন সংস্কার না করায় বর্ধিত দামের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ কোম্পানির পকেটে চলে যাবে এবং বাড়তি মুনাফা তামাক ব্যবসা প্রসারে ব্যবহৃত হবে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। 
 
প্রজ্ঞা-আত্মা’র মতে, তামাকবিরোধীদের প্রস্তাব অনুযায়ী সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ, সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তন অর্থাৎ বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের সাথে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ এবং সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম বাড়ানো হলে চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে প্রায় চার লক্ষ অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বিড়ি, জর্দা ও গুলের দাম এবং করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে এসব পণ্য আরেক দফায় সস্তা ও সহজলভ্য হবে এবং নারী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। বাজেটে দশ গ্রাম নিকোটিন পাউচের খুচরা মূল্য ৫০০ টাকা ও ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং দশ শলাকা হিটেড টোব্যাকোর খুচরা মূল্য ২১০ টাকা ও ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব পণ্য নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হলেও সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে তা বিবেচনা করা হয়নি। ফলে জনগণ বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়বে। অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে নিকোটিন গ্র্যানুলস এবং নিকোটিন পাউচ আমদানিতে ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং তামাক পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ মনিটর করার জন্য ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ পদ্ধতি প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। 

প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, “প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে তামাকপণ্য আরো বেশি সস্তা ও সহজলভ্য হবে। তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী তামাক ব্যবহারে বিশেষভাবে উৎসাহিত হবে, তামাক ব্যবহারজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু বাড়বে।”

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ৩৫.৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন এবং তামাক ব্যবহারজনিত রোগে বছরে প্রায় ২ লক্ষ মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। তামাক ব্যবহারজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতি বছরে ৮৭ হাজার কোটি টাকা। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত বাজেটে তামাকবিরোধীদের সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে প্রজ্ঞা ও আত্মা।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা   রাজস্ব হাতছাড়া হওয়া   বাড়তি রাজস্বের সুযোগ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

স্বাস্থ্য- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close