চমক আসছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিপরিষদে। রদবদল হতে পারে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে। রয়েছে একাধিক নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও। তবে বিষয়টি নিয়ে সচিবালয়ের ভেতর-বাহিরে ব্যাপক আলোচনা থাকলেও নিশ্চিত করে মুখ খুলছেন না কেউ।
বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন পূরণের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এই ১৮০ দিন ঘিরে একটি কর্ম পরিকল্পনা দিয়েছিলেন সরকার প্রধান তারেক রহমান। সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদেরও রাখা হয়েছে বিশেষ পর্যবেক্ষণে। তাদের এই ১৮০ দিন তথা ছয় মাসের কর্মদক্ষতা বিবেচনায় এবার সিদ্ধান্তের ভার প্রধানমন্ত্রীর হাতে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিক কাজের গতি বৃদ্ধি ও নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত এবং মন্ত্রণালয়গুলোর কর্মদক্ষতা বাড়াতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল করতে যাচ্ছে সরকার। তবে কর্মদক্ষতায় পিছিয়ে থাকা কাউকে সরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে মন্ত্রণালয় বদল করে দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের এক মন্ত্রণালয়ে এবং অপেক্ষাকৃত দক্ষ প্রতিমন্ত্রীদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার মতো বিকল্পও রয়েছে বিবেচনায়। একইসঙ্গে দলের অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের মন্ত্রিসভায় যুক্ত করা এবং যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সরকার পরিচালনায় সম্পৃক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ছয় মাসের কর্মপরিকল্পনা ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা শেষে চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের শুরুতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সরকার ও দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে বর্তমান পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানির নাম রয়েছে জোর আলোচনায়। এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
অন্যদিকে কর্মদক্ষতা ও মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে অবদানের ভিত্তিতে কয়েকজন প্রতিমন্ত্রীকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্য পদোন্নতির তালিকায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতের নাম রয়েছে। তবে মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য এসব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে কোনো মন্ত্রণালয়ে কে দায়িত্ব পাচ্ছেন এবং কার পদমর্যাদায় পরিবর্তন আসছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, মন্ত্রিসভায় রদবদলের আলোচনা থাকলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে না পারাদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নাও আসতে পারে। বড় কোনো বিতর্কে না থাকা, কিন্তু কর্মদক্ষতায় পিছিয়ে থাকা মন্ত্রীদের সতর্ক করে আরও সময় দেওয়া হতে পারে। একইসঙ্গে কাজের গতি বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন, দপ্তর ভাগ করে দেওয়া কিংবা নতুন লক্ষ্য নির্ধারণের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। আগামী কয়েক সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তন, নাকি সীমিত পুনর্বিন্যাস হবে, তা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তারা।
একাধিক মন্ত্রণালয়ের ভার এক কাঁধে, পুনর্বণ্টনের ভাবনা : মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এক ব্যক্তির হাতে থাকা বিষয়টি। সরকারের অভ্যন্তরে এ নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একইসঙ্গে পালন করতে গিয়ে কয়েকজন মন্ত্রীর ওপর কাজের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে নীতিনির্ধারণ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কার্যক্রমে প্রত্যাশিত গতি বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে কি না, সেটিও এখন বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির একইসঙ্গে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থনীতি ও শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম তার ওপর ন্যস্ত রয়েছে। অন্যদিকে শেখ রবিউল আলমের দায়িত্বে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত তিনটি মন্ত্রণালয়ের কাজ একইসঙ্গে দেখভাল করছেন তিনি।
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন মো. আমিন উর রশিদ। কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের নীতিনির্ধারণ পর্যন্ত বিস্তৃত পরিসরের দায়িত্ব তার অধীনে রয়েছে। এ ছাড়া অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় একসঙ্গে দেখছেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও একজনের হাতে। ফকির মাহবুব আনাম স্বপন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় পরিচালনা করছেন। শ্রমবাজার ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করছেন ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একই সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ফাইল, সভা, নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক বিষয় সামলাতে গিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি কমে যাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদলের অংশ হিসেবে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আলাদা করে দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। অর্থাৎ একই ব্যক্তির হাতে থাকা একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব ভাগ করে দিয়ে নতুন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্ত্রীসভায় স্থান পাবেন দলের সিনিয়র নেতারা : সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনে শুধু প্রতিমন্ত্রীদের পদোন্নতি বা কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পরিবর্তন নয়, দলের সিনিয়র নেতাদেরও সরকারে যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অভিজ্ঞ ও প্রবীণ কয়েকজন নেতাকে মন্ত্রিসভায় এনে সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকার কারণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি, ড. আবদুল মঈন খান এমপি এবং সেলিমা রহমান এমপির নাম আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে, টেকনোক্রেট কোটায়ও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম এ তালিকায় রয়েছে।
দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুক এমপি এবং বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল এমপিকেও মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে।
আলোচনায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরাও : সরকারের পরিসর আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের মধ্য থেকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার নামও আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশীদারদের সরকারে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে জোট ও যুগপৎ আন্দোলনের রাজনৈতিক সমন্বয় আরও দৃঢ় করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সম্ভাব্য তালিকায় থাকা নেতাদের নিয়ে আলোচনা চললেও শেষ মুহূর্তে আসতে পারে বড় চমক। প্রধানমন্ত্রী ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক খোলা কাগজকে বলেন, প্রতিটি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাজের একটি মূল্যায়ন প্রধানমন্ত্রীর কাছে রয়েছে। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতে যারা দক্ষতা, যোগ্যতা ও সততার প্রমাণ দিতে পেরেছেন, তারা দায়িত্বে বহাল থাকতে পারেন। আর যাদের বিষয়ে ঘাটতি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী সার্বিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে গতিতে কাজ শুরু করেছেন, মন্ত্রিসভার সবাই সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না। ফলে মন্ত্রিসভায় কিছুটা পরিবর্তন বা পুনর্বিন্যাস হতে পারে। পুরো বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি কীভাবে তার টিম সাজাবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সাইফুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি নতুন কর্মসংস্কৃতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রতিটি দিন ও প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানোর যে উদ্যোগ তিনি নিয়েছেন, সেই কর্মসংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ, যোগ্য, চৌকস ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের পাশাপাশি যারা মন্ত্রিত্বকে দায়িত্ব হিসেবে নিয়ে কাজ করবেন, তাদেরই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা উচিত। মানুষের প্রত্যাশাও এ ধরনের পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাসের দিকে।
মন্ত্রিসভার কিছু সদস্যের আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোনো কোনো মন্ত্রীর অতিরিক্ত কথা বলা, বেফাঁস মন্তব্য, ক্ষমতার প্রকাশ এবং কোথাও কোথাও দম্ভের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ভাষা ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজেও এর প্রকাশ ঘটছে। অথচ জনগণের কাছাকাছি থাকা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ রাজনৈতিক দলের মন্ত্রীদের এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়।
যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সরকারে আরও সম্পৃক্ত করার বিষয়ে সাইফুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী আগে জাতীয় সরকার এবং ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের কথা বলেছিলেন। রেইনবো নেশনের ধারণার একটি প্রতিফলন সরকারের কার্যক্রমেও থাকা প্রয়োজন। সংসদীয় ব্যবস্থায় জাতীয় সরকার গঠনের সুযোগ কতটা রয়েছে, সেটি নিয়ে আলোচনা থাকলেও বিভিন্নভাবে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, যারা নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসতে পারেননি, তাদের মধ্যে দক্ষতা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক কমিটমেন্ট রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের টেকনোক্রাট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকার যদি যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে নিয়ে চলতে চায়, তার জন্য শুধু মন্ত্রী করার পথই একমাত্র পথ নয়। বিভিন্নভাবে তাদের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে যুক্ত করা সম্ভব। আন্দোলনের সময় যে ঐক্য ছিল, ভবিষ্যতেও তা ধরে রাখার প্রত্যাশা রয়েছে। সরকারের কর্মকাণ্ডের মধ্যেও সেই ঐক্যের প্রতিফলন সবাই দেখতে চায়।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না খোলা কাগজকে বলেন, বর্তমান মন্ত্রিসভার অনেককেই ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। যাদের চিনি তাদেরও প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে দেখছি না। তিনি বলেন, মানুষের প্রত্যাশা এখনো অনেক বড়। জুলাই আন্দোলন হয়েছে, তার মূল আকাক্সক্ষা ছিল ‘নতুন বাংলাদেশ’। সংস্কারসহ পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে মানুষের সন্তুষ্টি অনুযায়ী একটি নতুন দেশ গড়ার কাজ এগিয়ে নেওয়ার মতো সরকারই মানুষ চায়।
মান্না বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়া সহজ কাজ নয়। এ জন্য যোগ্য ও দক্ষ মানুষ প্রয়োজন। অতীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে মেধা ও দক্ষতার সমন্বয়ে জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলেছিলেন, সে ধরনের উদ্যোগ নেওয়া গেলে ভালো হতো। তবে বর্তমান পার্লামেন্টারি ব্যবস্থায় জাতীয় সরকারের সুযোগ নেই।
যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের আরও কাউকে সরকারে নেওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি কোনো গুজবের ভিত্তিতে মন্তব্য করতে চান না। সরকার যদি মনে করে কাউকে প্রস্তাব করবে, তখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। প্রস্তাব এলে সেটি ভালো কি না, তখন বিবেচনা করবেন বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পাঁচ দিন পর, ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। শুরুতে প্রধানমন্ত্রীসহ ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে কয়েকজন উপদেষ্টাকেও সরকারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
কেকে/এলএ