বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই ব্রাজিল ও মরক্কোর ম্যাচটি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ছিল। ফিফা র্যাংকিংয়ের ছয় ও সাত নম্বরে থাকা দুই দলের লড়াইকে এবারের টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় ম্যাচ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতায় মাঠ ছাড়ে দুই দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও গোছানো ফুটবল উপহার দেয় মরক্কো। ব্রাহিম দিয়াজের নেতৃত্বে মাঝমাঠে আধিপত্য দেখাতে থাকে আফ্রিকার দলটি। ২১ মিনিটে দিয়াজের দারুণ থ্রু পাস থেকে গোল করে মরক্কোকে এগিয়ে দেন ইসমায়েল সাইবারি। আলিসন বেকারকে একা পেয়ে ঠান্ডা মাথায় লব শটে বল জালে জড়ান তিনি।
গোল হজমের পর কিছুটা চাপে পড়ে ব্রাজিল। তবে ৩২ মিনিটে দলের ত্রাতা হয়ে আসেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। রাফিনিয়ার পাস থেকে বক্সের বাঁ দিক থেকে নেওয়া তার দুর্দান্ত শট মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুকে পরাস্ত করে জালে আশ্রয় নেয়। ব্রাজিলের জার্সিতে নিজের ৫০তম ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ এই গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস।
যদিও গোলের পরও প্রত্যাশিত ছন্দে ফিরতে পারেনি কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। পুরো ম্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণ এবং সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল মরক্কো। ব্রাজিলের আক্রমণে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট ছিল এবং মাঝমাঠেও বেশ কয়েকবার বল হারিয়ে বিপদে পড়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরো ও রজার ইবানিয়েজকে তুলে নিয়ে ফাবিনিও ও দানিলোকে মাঠে নামান আনচেলত্তি। এরপর রাফিনিয়া কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় ব্রাজিল। অন্যদিকে ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলোতে জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে মরক্কো।
যোগ করা সময়ে মরক্কো প্রায় জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে ব্রাজিল গোলরক্ষক আলিসন বেকারের অসাধারণ সেভ দলকে হার থেকে বাঁচিয়ে দেয়। শেষদিকে তার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ না থাকলে বিশ্বকাপ মিশনের প্রথম ম্যাচেই পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেতে হতো ব্রাজিলকে।
শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্রয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে দুই দল। তবে খেলার ধরন বিবেচনায় মরক্কোই বেশি সন্তুষ্ট থাকবে। আর ব্রাজিলের জন্য এটি ছিল হেক্সা জয়ের স্বপ্নযাত্রার শুরুতে একটি সতর্কবার্তা।
কেকে/ এমএস