ইরানের জনগণের ইচ্ছাশক্তির কাছে পরাজিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিতে সম্মত হওয়াকে নিজেদের বিজয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। এছাড়া ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি। এদিকে, চুক্তি হওয়ায় ইসরাইলে বিরোধী দলের তোপের মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তিতে রাজি হওয়ায় যেন হাফ ছেড়ে বাঁচল বিশ্ব। দুই পক্ষের এমন ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা।
চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করার পর যৌথ বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি। ই-ফোর জোটের এই নেতারা বহুল প্রতীক্ষিত এ চুক্তিকে বিশ্ব অর্থনীতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের এই শীর্ষ চার শক্তি। বিশ্বনেতাদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে এই চুক্তির মাধ্যমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আশা প্রকাশ করেন, এই করিডোর চালুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। চুক্তিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ আখ্যা দিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান যেকোনো ধরনের উসকানি ও নাশকতার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই চুক্তির পেছনে পর্দার আড়ালে থাকা মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন সবাই। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে আলোচনার অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য বিশেষভাবে পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানান। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই সফলতার প্রশংসা করেন।
এদিকে, এই চুক্তিকে নিজেদের সামরিক ও রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দাবি করেন, শত্রুপক্ষ তাদের অশুভ উদ্দেশে ব্যর্থ হয়ে তেহরানের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।
আইআরজিসি জানায়, ইরানি জনগণের ইচ্ছাশক্তির কাছে পরাজিত হয়েছে শত্রুপক্ষ।
অন্যদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে সম্মতি হওয়ায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইসরাইল। দেশটির বিরোধী দলের নেতা ইয়ার গোলান বলেন, ‘এই চুক্তি তেহরানের বিরুদ্ধে তেল আবিবের সব সামরিক অর্জন মুছে দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার আগে শত্রু পক্ষকে শক্তিশালী করে যাচ্ছেন।’
কেকে/এমএ