মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রতিনিধিরা। উভয় দেশই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এই সমঝোতার মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখা এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জি-৭ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ।
চুক্তি সইয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ম্যাখোঁ বলেন, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও জানান, চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও স্থিতিশীল হতে পারে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর চূড়ান্ত খসড়ায় দুই পক্ষ সই করেছে। তবে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং এর শর্তগুলো কার্যকরভাবে অনুসরণ করা।
চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশ চূড়ান্ত সমঝোতার বিভিন্ন শর্ত নিয়ে আলোচনা করবে। পাশাপাশি লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সামরিক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।
সমঝোতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। অন্যদিকে ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রায় চার মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে নতুন এক কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে।
কেকে/ এমএস