ভারতের সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বিদ্যা ভূষণ সোনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক জোরদারে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।’
তারেক রহমান ভারতে না এলে এই সুযোগ হারিয়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পথও খোলা নাও থাকতে পারে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিদ্যা ভূষণ সোনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে তিনি আরও বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয় সমাধানের জন্য এই সফর গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।’
তার মতে, বর্তমান সুযোগটি কাজে লাগাতে পারলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে যেতে পারে।
বিদ্যা ভূষণ সোনি বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অমীমাংসিত। এর মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন অন্যতম।’
তিনি জানান, তিস্তা নিয়ে দুই দেশ অনেক বিষয়ে একমত হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরে আর চূড়ান্ত হয়নি।
বিদ্যা ভূষণ সোনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার সমাধানেও বাংলাদেশ ভারতের আরও সক্রিয় ভূমিকা চায়।’
তার মতে, এ ক্ষেত্রে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা ছাড়া ভারতের তেমন কিছু করার নেই। কারণ, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ভারতের কথা শুনতে পারে।
তারেক রহমানের ভারত সফরের মাধ্যমে সেই সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ ভারতকে এসব সমস্যা সমাধানে তার প্রভাব কাজে লাগানোর অনুরোধ করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
তারেক রহমানকে নিয়ে আশাবাদী বিদ্যা ভূষণ সোনি
বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্ব নিয়েও আশাবাদ প্রকাশ করেছেন বিদ্যা ভূষণ সোনি। তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান তুলনামূলকভাবে বেশি খোলামেলা এবং তিনি ভারতবিরোধী নন।’
সোনির দাবি, তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে ভারতের বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য দেননি। এ কারণে নয়াদিল্লিও সম্ভাব্য সফরকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে।
তিনি বলেন, ‘দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন বক্তব্য থাকলেও দুই দেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ এখনো রয়েছে।’
তাই তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে বিদ্যা ভূষণ সোনি আশাবাদী।
সোনির মতে, এই সুযোগ নষ্ট হলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যোগাযোগের দরজা দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই উভয় দেশেরই এই সুযোগ কাজে লাগানো উচিত।
শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন টানাপোড়েন
দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বর্তমানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নিয়ে ঢাকা অসন্তোষ জানিয়েছে এবং তাকে ফেরত দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দোষী সাব্যস্ত করেছে।’
একই সঙ্গে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদেরও দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানানো হয়েছে।
তবে শেখ হাসিনার ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে ভারত।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আয়োজন করেছিল। এতে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
‘অনুষ্ঠানে যে মতামত প্রকাশ করা হয়ে থাকতে পারে, ভারত সরকার সেগুলোর কোনোটি সমর্থন করে না।’
কেকে/এমএ