ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলা জোরদারের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়েছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করতে যাচ্ছে। সৌদির ওপর হামলার পর দেশটির নিরাপত্তায় সহায়তার উপায় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে মক্কা ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে আত্মরক্ষার অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তিন দেশের সামরিক বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে দ্রুত একটি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সব পক্ষের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে হুতিরা। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে।
হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব এর আগে পবিত্র নগরী মক্কা, জেদ্দা ও লোহিত সাগরের প্রধান তেলবন্দর ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করে। দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষও হুতিদের ক্ষমতা থেকে উৎখাত না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সেনাদের জীবন উৎসর্গের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে হুতিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নিয়ে নিজেদের অবস্থান কিছুটা দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘হুতিরা তাদের নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য নিজেরাই দায়ী।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিও জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, সাত দিনের মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অবরোধ প্রত্যাহার, আটকে থাকা অর্থ ছাড় এবং তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে।
যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। হুতিদের হামলায় লোহিত সাগরের মুখে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতেও ট্যাংকার চলাচল সীমিত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
হুতিদের ওপর ইরানের সরাসরি প্রভাব কতটা, তা নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে ইয়েমেনি সরকার, ইরান ও আঞ্চলিক বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ধরে হুতিদের অগ্রযাত্রায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সরাসরি দিকনির্দেশনা ছিল।
এদিকে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দেশের যেসব প্রতিষ্ঠান ইরানি কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করে, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের নীতি জোরদার করেছে। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানসহ প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিকভাবে ইরানের বিচ্ছিন্নতা আরও বাড়তে পারে এবং দেশটির চলমান অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
কেকে/সাশ