জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে আনসার সদস্যদের তৎপরতায় মোবাইল চোর আটক, পুলিশে সোপর্দ
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এক চিকিৎসাধীন রোগীর মোবাইল চুরি করে পালানোর সময় হাতেনাতে এক চোরকে আটক করেছেন সেখানে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা।
শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা এলাকার এই হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটে। আটক যুবকের নাম জুবায়ের আহমেদ (২৫)। পরে উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
শনিবার (২০ জুন) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকউজ্জামানের পাঠানো সংবাদ এ তথ্য জানান
ভুক্তভোগী মো. হারুন অর রশিদ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। তিনি বর্তমানে হৃদরোগ হাসপাতালের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১০ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে তিনি যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন জুবায়ের নামের ওই যুবক তার বেড থেকে মোবাইল ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। মোবাইল টান দেওয়ায় ঘুমের ঘোরে জেগেই বিষয়টি টের পেয়ে যান হারুন অর রশিদ এবং সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার ইনচার্জ পিসিকে ফোন করে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে মুহূর্তের মধ্যেই তৎপর হয়ে ওঠেন আনসার সদস্যরা। হাসপাতালের দায়িত্বরত পিসি মো. আমিনুল হক তার টহল দল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং হাসপাতালের প্রতিটি প্রবেশদ্বারে নিয়োজিত ডিউটি সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। পুরো হাসপাতাল চত্বরে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে অবশেষে পালানোর প্রাক্কালে জুবায়েরকে আটক করতে সক্ষম হয় আনসার টহল দল। পরে তার দেহ তল্লাশি করে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। এই সফল অভিযানে আমিনুল হকের সঙ্গে ছিলেন এপিসি জহিরুল ইসলাম, আনসার সদস্য মো. হাবিবুর রহমান এবং শ্রী পবিত্র চন্দ্র।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী রোগী এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনসার সদস্যদের সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় আটক চোরকে স্থানীয় শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তায় নিয়োজিত অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে তৎপর রয়েছেন।
কেকে/এলএ