ইসলামি হিজরি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম। এটি শুধু নতুন বছরের সূচনা নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। ইসলামে মহররম মাসকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এটি আল্লাহর কাছে সম্মানিত চারটি হারাম মাসের অন্যতম।
আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারোটি; তার মধ্যে চারটি সম্মানিত (হারাম) মাস।” (সূরা তাওবা: ৩৬)
ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ মাসে একজন মুমিনের জন্য কিছু বিশেষ আমল রয়েছে, যা তার ঈমান ও তাকওয়া বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। যেমন-
তওবা ও আত্মসমালোচনা
নতুন হিজরি বছরের শুরু আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির উত্তম সময়। আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে মুমিনরা! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা কর।” (সূরা নূর: ৩১)
তাই অতীতের ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে আন্তরিকভাবে তওবা করা উচিত।
নফল রোজা পালন
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা।” (সহিহ মুসলিম: ১১৬৩)
এ কারণে মহররম মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
আশুরার রোজা
মহররমের ১০ তারিখ, অর্থাৎ আশুরার দিন বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন। রাসুল (সা.) বলেছেন, “আশুরার রোজার মাধ্যমে আল্লাহ পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেন।” (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)
তিনি ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মহররম রোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
ইবাদত ও জিকির বৃদ্ধি
নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ, তাহলিল, দরুদ ও ইস্তিগফার বেশি বেশি করা উচিত। আল্লাহ বলেন, “তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ করব।” (সূরা বাকারা: ১৫২)
দান-সদকা ও মানবসেবা
অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মহররম মাসে দান-সদকা ও মানবকল্যাণমূলক কাজে অংশ নেওয়া বিশেষ সওয়াবের কাজ।
গুনাহ থেকে বিরত থাকা
মিথ্যা, গিবত, হিংসা, অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি। আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না।” (সূরা তাওবা: ৩৬)
কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা
নতুন বছরকে কেন্দ্র করে কোরআন অধ্যয়ন ও এর শিক্ষার ওপর আমল করার দৃঢ় সংকল্প নেওয়া যেতে পারে। আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় এই কোরআন সর্বাধিক সঠিক পথ দেখায়।” (সূরা ইসরা: ৯)
আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রিজিক ও হায়াতে বরকত চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।” (সহিহ বুখারি: ৫৯৮৬)
ইসলামের ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ
আশুরার দিনে হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীরা ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি লাভ করেছিলেন। পাশাপাশি কারবালার ঘটনা মুসলমানদের সত্য, ন্যায়, ধৈর্য ও আত্মত্যাগের শিক্ষা দেয়।
এই মাসের সম্মান রক্ষা করা এবং পাপ থেকে দূরে থাকা একজন মুমিনের দায়িত্ব। হারাম মাস হওয়ায় এ সময়ে নেক আমলের গুরুত্ব যেমন বেশি, তেমনি গুনাহ থেকেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
মহররম মাস একজন মুসলমানের জন্য আত্মশুদ্ধি, ইবাদত বৃদ্ধি এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এক সুবর্ণ সুযোগ। এ মাসকে কুসংস্কার বা গাফেলতিতে নষ্ট না করে তওবা, রোজা, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা ও নেক আমলের মাধ্যমে কাজে লাগানো উচিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মহররম মাসের ফজিলত ও শিক্ষা যথাযথভাবে গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
কেকে/ এমএস