পার্শ্ববর্তী দেশের পানি বৈষম্যের কারণে দেশের অনেক নদী খালে পরিণত হয়েছে এবং তিস্তা এখন মরুভূমির মতো অবস্থায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আমডলা ভাউয়ালকান্দি এলাকার ইছামতি নদীর পাড় থেকে কোনাবাড়ি পর্যন্ত খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘খাল পুনঃখননের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে জনগণের ম্যান্ডেট পেলে দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। সেই ধারাবাহিকতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চলতি বছর ১ হাজার ৫০০ মিটার এবং আগামী পাঁচ বছরে সাড়ে ৭ হাজার মিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করতে খাল খননের যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, উদ্বৃত্ত উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান উদ্যোগের মাধ্যমে শুকনো মৌসুমে পানি সংরক্ষণ এবং বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তিস্তা ও পদ্মা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আমরা মনে করি বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। নদীগুলো অবহেলা অযন্ত্রের কারণে আজ খালে পরিনত হয়েছে। এগুলো খননের একটা মহাপরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। ১৭ বছর বাংলাদেশ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিলো। একদিনে সবকিছু পরিস্কার করা সম্ভব হবে না। তবে খাল খননে সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ছাড়া খাল খননের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা এবং বিএনপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/ এমএস