কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে (৫৯) নিজ বাড়ির সামনেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এসে হামলার শিকার হয়েছে বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়া। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় শোক, আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাত১০টার দিকে উপজেলার কামালপুর এলাকায় নিজ বাগানবাড়িতে প্রবেশের সময় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, রাতে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর নিজ বাগানবাড়িতে প্রবেশ করার সময় আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা তিনজন দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। তাদের হাতে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং গুরুতর আহত হন।
জাহাঙ্গীরের চিৎকার শুনে বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়া তাকে বাঁচাতে ছুটে গেলে হামলাকারীরা তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। পরে আশপাশের লোকজন চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে একজনকে আটক করতে সক্ষম হলেও অপর দুইজন পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় দুইজনকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল ও তার বাড়িতে স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির নেতাকর্মীদের ঢল নামে। স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় হাসপাতাল ও বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
অনেক নেতাকর্মী এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত উল্লেখ করে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আনন্দ বসাক বলেন, “রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
নিহত জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের স্বজনরা বলেন, “জাহাঙ্গীর একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন। পরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থেকে সন্ত্রাসীরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত চাই। যারা এই ঘটনায় জড়িত, তাদের সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই যেন প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে না যায়।”
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “হামলায় অংশ নেওয়া তিনজনই ঢাকা থেকে মিঠামইনে এসেছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক কারণেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।”
কেকে/এমএ