যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ওই চুক্তির আওতায় নিজেদের সব ধরনের অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন স্থগিত করেছে ইরান।
আজ শনিবার (১৮ জুলাই) ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে গারিবাবাদি বলেন, ‘ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই তাদের সব অঙ্গীকার লঙ্ঘন ও স্থগিত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের চলমান হামলার প্রেক্ষাপটে তেহরানও চুক্তির আওতায় নিজেদের সব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন বন্ধ করেছে এবং বর্তমানে দেশের প্রতিরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।’
ওয়াশিংটন চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে তেহরান একাধিকবার-এ অভিযোগের পর প্রথমবারের মতো ইরানের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক থেকে বেরিয়ে যাওয়া ঘোষণা দিলো।
গেল ৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ চুক্তিটি সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর ও শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
একইসঙ্গে তিনি ইরানে আবারও হামলার হুমকি দেন। এরপর থেকে গত এক সপ্তাহ ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে টানা সপ্তম রাতের মতো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার ও সামুদ্রিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে।
জবাবে জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। হামলায় কুয়েতের বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানি শোধনাগার ও তেল স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, গালফ নিউজ
কেকে/এমএ