জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ‘আমরা যদি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোকে সকলের জন্য নিরাপদ করে তুলতে পারি, সকলের মধ্যে একটা সম্প্রীতির চর্চা করতে পারি, তাহলে জাতীয় জীবনে আর কোনো বিভেদের রাজনীতি, সে ধর্মীয় বিভেদ হোক, দলীয় বিভেদ হোক তা থাকবে না। বরং দেশ হিসেবে, রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে সামনের দিকে কীভাবে আমরা অগ্রসর করতে পারি, সেই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা তখন কাজ করার সুযোগ পাব।’
রোববার (২৬ জুলাই) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির উদ্যোগে আয়োজিত বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি, আমাদের পড়ালেখার বাইরেও একটা বৃহৎ দায়িত্ব আছে। দেশের গতিপথ নিয়ে আমাদেরকে ভাবতে হবে। আমরা ইতিহাসের পরতে পরতে এটা দেখেছি যে, যখনই কোনো দেশের সরকার বিপথে যাওয়া শুরু করে, তখন সবার প্রথম যারা সাহস করে কথা বলতে চায়, তারা আমাদের শিক্ষার্থী ভাই ও বোনেরা। কারণ আমাদের শিক্ষার্থীরা, তারা একটা তারুণ্যের জোয়ারে থাকেন, ভয়-ডরহীন অবস্থায় থাকেন, তারা পিছুটান ভুলে যান, মায়া ভুলে যান, নিজের জীবনের জন্য তাদের আর কোনো দরদ থাকে না। তখন তাদের দরদটা থাকে দেশ এবং সমাজের জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা এটা বুঝতে শেখেন যে, আমরা যদি কালেক্টিভলি ভালো না থাকতে পারি, শুধু একা একা ভালো থাকা সেটা আমাদেরকে সিকিউর করে না। আমরা যদি সিস্টেমগুলোকে ডেভেলপ করার ক্ষেত্রে কাজ না করি, প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী না করি, প্রাতিষ্ঠানিক যে গণতন্ত্র সেটাকে সুরক্ষিত না করি, তাহলে আমরা আসলে কেউই ভালো থাকব না। গেস্টরুম কালচারের মতো বিষয়গুলোকে যদি আমরা আর ফিরতে না দেই তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হবে নিরাপদ। আর এই নিরাপদ ক্যাম্পাস থেকেই এখানে চর্চা হবে সম্প্রীতির যা দূর করবে আমাদের জাতীয় বিভেদ।’
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ইফতেহার উদ্দীনের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক আলী আহসান জুনায়েদ ও সারোয়ার তুষার, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান।
কেকে/ এমএস