জ্বালানির দাম বাড়ায় শুধু দ্রব্যমূল্যই নয়, মানুষের যাতায়াত খরচও বেড়েছে। ফলে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দল রাজপথে সমাধান চায়নি, সংসদে চেয়েছিল। ৬৮ বিধিতে নোটিশ দিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বিদ্যুৎ খাতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কারিগরি দল দিতে চাইলেও সরকার তা গ্রহণ করেনি।
লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব দাবিই নির্দলীয় ও যৌক্তিক। সবার দাবি নিয়েই বিরোধী দল মাঠে নেমেছে। দেশের শান্তি ও গণতন্ত্র সুসংহত রাখতে সরকারের প্রতি দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি দল যদি নিজেরাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সহিংসতা করে, তাহলে কিছু বলার থাকে না।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সারা বছরই তো কোনো না কোনো পরীক্ষা হয়। তাহলে পরীক্ষা পেছাতে হবে কেন? নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ড শক্ত নয়, দুর্বল মেরুদণ্ড। তাই তারা নির্বাচন পিছিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই চেয়েছিলাম।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীন-সার্বভৌম একটি দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এভাবে চলতে পারে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিক বলেন, ‘সারা দেশে হামে শিশু মৃত্যুর বিষয়টি দুঃখজনক। সারা দেশে সমস্যা বিদ্যমান থাকলেও সংসদে নেই। জেলা সদরের মতো উপজেলা সদরেও আইসিইউ দিয়ে দেওয়া হবে—এগুলো অবাস্তব কথা। সবকিছুতে লুকোচুরির মানসিকতা বিদ্যমান। টিকা নিয়ে তেলেসমাতি করা হয়েছে।’
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে চীন ও ভারতের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে ফিরিয়ে দেওয়াই এ সংকটের চূড়ান্ত সমাধান। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে একা বাংলাদেশের পক্ষে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য চীন, ভারতসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। তিনি নিজেও একাধিকবার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে তাঁদের জীবনযাপন ও দুর্ভোগ কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের জন্য সাময়িক অর্থসহায়তা দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে না। তাদের নিজ দেশে ফেরার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
কেকে/ এমএস