ন্যায্যমূল্যের আটা আত্মসাতের অভিযোগে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার খাদ্য কর্মকর্তা, খাদ্য পরিদর্শক ও সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন এবং অভিযুক্তদের কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলুাই) তদন্ত কমিটি গঠন ও বুধবার (২৯ জুলাই) তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়।
সম্প্রতি উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের ঘুষ-সংক্রান্ত গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কালাইয়ে প্রতিদিন দুই টন আটা ও দুই টন চাল বরাদ্দ থাকে। নিয়ম অনুযায়ী, একজন সুবিধাভোগী ২৭০ টাকায় ৫ কেজি আটা ও ৫ কেজি চাল পান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই টন আটার বিপরীতে বিক্রয়কেন্দ্রে ৪০ বস্তা থাকার কথা থাকলেও রাখা হতো ২০ বস্তা। ফলে অনেকে আটা পেতেন না। গত সোমবার এক প্রত্যক্ষদর্শী বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে ২০ বস্তা আটা দেখে কর্মচারীদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, ২০ বস্তাই এসেছে।
ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকরা উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের বক্তব্য নিতে যান। প্রকাশিত ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, এত কথা কওয়া লাগবে ক্যা... সবাই মিলেমিশে খাই। এখানে তেমন কিছু নাই... আর আপনারা যদি কন বন্ধ করে দিতে, কালকে থেকে বন্ধ করে দিমু।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ বলেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় বুধবার উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদ, খাদ্য পরিদর্শক মাহমুদুন্নবী সরকার ও সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিনকে সাময়িক বরখাস্ত ও কালাই থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর চূড়ান্ত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’