মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● এক দিন বেড়ে দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি, প্রধানমন্ত্রী বাড়ালেন অনুদানও      ● দেশে হামে মৃত্যু ছাড়ালো ১১০০      ● ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু, সর্বোচ্চ আক্রান্ত ঢাকা বিভাগে      ● হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু      ● একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের ১৩ প্রকল্প অনুমোদন      ● এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত, মজুতদারির চেষ্টা হলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা      ● মাঠে নামার আগেই সেমিফাইনালের টিকিট পেল বাংলাদেশ      
দেশজুড়ে
কক্সবাজারে ভূমিদস্যু চক্রের দখলে শত কোটি টাকার সরকারি জমি
মো. নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৭ পিএম আপডেট: ২৯.০৯.২০২৬ ৯:১৯ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনে সরকারি খাস জমি দখল করে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকায় বিক্রি ও হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। ডলফিন মোড় সংলগ্ন বৈশাখী রেস্তোরাঁ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৪.৫০ একর জমি টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে ভেতরে পাকা দেয়াল ও দোকান ঘর নির্মাণের কাজ পুরোদমে চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রাসাদ প্যারাডাইসের মালিক ইউসুফ আবদুল্লার নামে বরাদ্দকৃত বি.এস. খতিয়ান নং-০১-এর ৩০ নম্বর প্লটটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। প্লটটিতে স্থিতাবস্থার আদেশ থাকা সত্ত্বেও সেখানে গোপনে মার্কেট নির্মাণের কাজ চলছে বলে অভিযোগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণস্থলের চারপাশে উঁচু টিনের বেড়া দেওয়া হয়েছে। বেড়ার আড়ালে কয়েকজন শ্রমিককে নির্মাণকাজ করতে দেখা যায়। তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা কার নির্দেশে কাজ করছেন সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাশের বৈশাখী হোটেল/রেস্টুরেন্টের মালিক কামরুলের তত্ত্বাবধানে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ সব নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে। নির্মাণাধীন দোকানগুলো বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে উচ্চ ‘সালামি’র বিনিময়ে বরাদ্দ দেওয়ার কথাও জানান স্থানীয়রা। 

তাদের দাবি, এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এর আগেও একই প্লটে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে বৈশাখী হোটেলসহ প্রায় ২০-২৫টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। এ সব দোকানও উচ্চ ‘সালামি’র বিনিময়ে ভাড়া বা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।

এ দিকে, কলাতলীতে সরকারি বাতিলকৃত প্লটে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগও স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে। 

অভিযোগের বিষয়ে কামরুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে ফোন কেটে দেন। পরে নিউজের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সরাসরি দেখা করে বক্তব্য দেওয়ার কথা জানান তিনি।

​আদালতের নিষেধাজ্ঞা

সরেজমিনে দেখা যায়, কলাতলী রোডের মূল সড়কের পাশে টিনের ঘেরা দিয়ে বিশাল এলাকা বেষ্টন করা হয়েছে। সেখানে টানানো একটি নোটিশে লেখা রয়েছে, ‘প্রবেশ নিষেধ— মহামান্য হাইকোর্টের রিট নং- ৩৪৭৫/২০২৪ (তারিখ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) এর নির্দেশনা অনুযায়ী, বি.এস খতিয়ান নং-০১, বি.এস দাগ নং-২০০০৩/১, কলাতলী রোড, প্লট নং-৩০, হোটেল মোটেল জোন, কক্সবাজার। বৈশাখী রেস্তোরাঁ সংলগ্ন সীমানা প্রাচীরের উপর সকল স্থাপনা নির্মাণের উপর আদালতের স্থিতি বিদ্যমান। অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। জমির পরিমাণ- ৪.৫০ একর।’

​আদালতের স্থিতাবস্থার নোটিশ ঝোলানো হলেও সরেজমিনে ঠিক তার বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। সেখানে রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিকদের দিয়ে পাকা ইটের দেয়াল নির্মাণ এবং প্লট তৈরির কাজ প্রকাশ্যে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

​স্থানীয়দের উদ্বেগ ও কোটি টাকার বাণিজ্য

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত দিনে এ জায়গাটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি হঠাৎ একটি চক্র রাতের আঁধারে টিনের সীমানা প্রাচীর দিয়ে পুরো সাড়ে চার একর জমি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরবর্তী সেই জমি ছোট ছোট প্লট ও দোকানের আকার দিয়ে কোটি টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন জনের কাছে হস্তান্তরের চক্রান্ত চলছে।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, আদালতের রিট ও সরকারি খাস জমি (১ নং খতিয়ান) হওয়ার তথ্য নোটিশে নিজেরাও লিখে রেখেছে, আবার নিজেরাই সেখানে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে পাকা স্থাপনা তুলছে। এটি মূলত প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকার ভূমি বাণিজ্যের পাঁতারা।

​প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

কক্সবাজারের প্রাণকেন্দ্রে এভাবে সরকারি বি.এস ১ নং খতিয়ানের জমি দখলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তারা দ্রুত জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করে এ অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রটিকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। 

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মশিয়ুর রহমান বলেন, ‘বাতিলকৃত সরকারি প্লট হলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। বিষয়টি জানতাম না। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। যতই প্রভাবশালী হোক, সরকারি জায়গা দখল করতে দেওয়া হবে না।’

জেলা প্রশাসক (ডিসি) আ: মান্নান বলেন, ‘বিষয়টি অবগত ছিলাম না। তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  কক্সবাজার   ভূমিদস্যু   চক্র   দখল   সরকারি জমি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close