বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে পরিবেশগত সুশাসন, জবাবদিহিতা ও টেকসই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদারের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা : টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে’ শীর্ষক জাতীয় জনসংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অধিকারভিত্তিক সংগঠন ভয়েস’-এর উদ্যোগে এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রগ্রেসিভ কমিউনিকেশনসের (এপিসি) সহায়তায় ঢাকায় ওয়াইডাব্লিউসিএর মিলনায়তনে এই জনসংলাপের আয়োজন করা হয়
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১’-এর কার্যকারিতার ওপর ভয়েস’-এর সাম্প্রতিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন হয়। বর্তমান ধারা বজায় থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে এটি ৪৬.২ লক্ষ টনে পৌঁছাতে পারে। তবে বর্তমানে মোট ই-বর্জ্যের মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত হয়; বাকি অংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে ব্যবস্থাপিত হওয়ায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার বলেন, “প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে । টেকসই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ, অঞ্চলভিত্তিক উদ্যোগ এবং সব অংশীজনের সমন্বিত সহযোগিতা অপরিহার্য।”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণের সঙ্গে ই-বর্জ্যের পরিমাণও দ্রুত বাড়বে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিরাপদ পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা, গবেষণা জোরদার, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং সরকার, শিল্পখাত ও অনানুষ্ঠানিক খাতের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) মেডিকেল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট পরামর্শক তড়িৎ কান্তি বিশ্বাস বলেন, “ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শুধু নীতিমালা বা সচেতনতা কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। কার্যকর অবকাঠামো, বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও টেকসই অর্থায়নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেই দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব।”
সমাপনী বক্তব্যে ভয়েস’-এর নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, “ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি জাতীয় সচেতনতার বিষয়। তাই দেশব্যাপী জনসচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদারের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্যাম্পেইন ও কর্মশালার মাধ্যমে তরুণদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন, যাতে তারা দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তুলে টেকসই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।”
ভয়েস’-এর উপ-পরিচালক মুশাররাত মাহেরা বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান চিত্র, নীতিগত ও বাস্তবায়নগত বিদ্যমান ঘাটতি এবং তা দূরীকরণে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সভায় নাগরিক উদ্যোগ, ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ, বাপাসহ বিভিন্ন রিসাইক্লিং কোম্পানি ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর ও টেকসই করতে সমন্বিত জাতীয় নীতি বাস্তবায়ন, শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ও সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক উদ্যোগ জোরদারের মাধ্যমে ই-বর্জ্যকে একটি মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কেকে/এমএ