রাজধানীর উত্তর সিটির মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের অফিস দখলচেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অন্তত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার মামলায় মোস্তাকের রহমান খোকন চৌধুরীকে প্রধান আসামি করলেও তাকেও এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ও সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জীবন (২৮), সাইফুল (২৭), আসাদুল (৩৬), সাদ্দাম (৩৫), আবুল বাশার (৩২) ও সম্রাট (২৬)।
এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন রিপন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন রায়হান, হেলাল, জামাল, নূর নবী, নান্নু, জসীম, মহিন, প্রিন্স ও আলআমিনসহ অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জন।
আনোয়ার হোসেন রিপন বলেন, ‘মায়ের বিক্রিত জমি ছেলে এসে দখল করতে চেয়েছে। এ সময় হামলা লুটপাট করা হয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও প্রধান আসামি মোস্তাকের রহমান খোকন চৌধুরী এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। পুলিশ বলছে, তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন চাঁদ উদ্যান বেড়িবাঁধ সংলগ্ন টুইন টাওয়ারের দ্বিতীয় তলার একটি অফিসে লুটপাট, ভাঙচুর ও প্লটটি দখলের চেষ্টা চালানো হয়।
আনোয়ার হোসেন রিপনের দাবি, তিনি ও আরও ৩০ জন ব্যক্তি ওই জায়গার ক্রয়সূত্রে মালিক। ভবন নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা করতে তারা ওই অফিসে বৈঠক করতেন। অফিসটিতে ভবন নির্মাণের জন্য সংগৃহীত টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রাখা ছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অফিসে প্রবেশ করে। পরে অফিসের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে আনুমানিক ৪ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়। এ সময় অফিসের ক্যাশ বক্সে থাকা ভবন নির্মাণের জন্য রাখা ১৫ লাখ টাকা, একটি অ্যাপলের ম্যাকবুক, একটি আসুস ল্যাপটপ, তিনটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, দুইটি এসি, চারটি সিসি ক্যামেরা ও একটি ডিভিআর বক্সসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।’
বাদীর অভিযোগ, হামলাকারীরা অফিসে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাটের পর সেখান থেকে চলে যায়। পরে পরিবারের সদস্য ও অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় এসে এজাহার দায়ের করেন তিনি।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এজাহারে অনুরোধ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী আনোয়ার হোসেন রিপন।
জমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন রিপন বলেন, ‘এই জমি আজ থেকে ২০ বছর আগে বিক্রি হয়। আমরা কিনেছি দুই বছর আগে। পূর্বের মালিকরা বিক্রি করে দিলেও তাদের ওয়ারিশ দাবি করে এই হামলা ও লুটপাট চালানো হয়।’
তিনি বলেন, ‘এখানে ৯ শতাংশের মালিক ছিলেন রাহিমা বেগম। তার ভাগের অংশ ৯ শতাংশ ২০ বছর আগে আলম হোসেনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। রাহিমা তার ভাগে পাওয়া ৯ শতাংশ আলম হোসেনের কাছে বিক্রি করেছেন। কিন্তু তার ছেলে ১২ শতাংশ দাবি করে লোকজন নিয়ে এসে এই হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে।’
নির্মাণাধীন ভবনের পাশেই খোকন চৌধুরীর একটি দশতলা ভবন রয়েছে। সেখানে বেশি জমি দখল করে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন আনোয়ার হোসেন রিপন। খোকন চৌধুরী যতটুকু কিনেছেন, তার চেয়ে বেশি দখল করে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। আর এখন আমাদের ক্রয়কৃত জমি দখল করতে এসে লুটপাট ও ভাঙচুর চালায়।
মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
কেকে/এমএ