সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে ‘জুলাই এক রক্তের ইতিহাস, তাদের ত্যাগ আমাদের প্রেরণা, যাদের পথেই আমরা এগিয়ে চলি’ প্রতিপাদ্যে ‘রান ফর জুলাই’ প্রতীকী ম্যারাথন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ৭টায় গণ বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক কালচারাল সোসাইটির (জিবিআইসিএস) উদ্যোগে আয়োজিত ম্যারাথন প্রতিযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু হয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে শেষ হয়।
ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ২৪০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারাও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।
ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস অনুষদের শিক্ষার্থী নীলাদ্র শুভ বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে ‘রান ফর জুলাই’ জিবিআইসিএসের চমৎকার আয়োজন। জুলাই কোনো সাধারণ মাস নয়, জুলাই এক রক্তাক্ত ইতিহাস ও চেতনার মাস। জুলাইয়ের রক্তের দাগ আর ক্ষত এখনো শুকায়নি, অথচ আজ রক্ত দেওয়া বিপ্লবীদেরই বলা হয় জুলাই ব্যবসায়ী। প্রশ্ন জাগে, ব্যবসায়ী আমরা, নাকি যারা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় বসেছে? জুলাইয়ের আন্দোলনে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদান অনেক। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে জুলাই নিয়ে কোনো কর্মসূচি হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা সহযোগী অধ্যাপক মো. শাহ আলম বলেন, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশে যুবসমাজের যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, তা নিয়েই আজকের এই ‘রান ফর জুলাই’। আমি আশা করি, যুবসমাজের কর্মের মাধ্যমে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবে এটি প্রতিষ্ঠায় যুবসমাজকেই অবদান রাখতে হবে। ভবিষ্যতেও সুন্দর কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
স্বাস্থ্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. ফুয়াদ হোসেন বলেন, ‘রান ফর জুলাই’ ম্যারাথনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এটি সব ধরনের অনিয়ম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রতীক। ছাত্রসমাজই চব্বিশের জুলাইয়ে দীর্ঘদিনের জুলুম ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল এবং বিজয় এনেছিল। আন্দোলনের দিনগুলোতে শিক্ষকরা সর্বদা শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলেন। বিশেষ করে ১৮ জুলাই, যখন ছাত্ররা নবীনগর কুটিরশিল্পের সামনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল, তখন শিক্ষকরা সেনা মার্কেটে অবস্থান নিয়ে তাদের নিরাপদে বের করতে সক্ষম হয়েছিলেন। শিক্ষার্থীদের যেকোনো ইতিবাচক ও ভালো উদ্যোগে অতীতের মতোই ভবিষ্যতেও আমাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, যুগে যুগে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ছাত্রসমাজ। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রসমাজই ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে আমাদের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেই জুলাই যোদ্ধা ও শহীদদের স্মরণে আমরা আজ ‘রান ফর জুলাই’-এর এই আয়োজন করেছি। অপশক্তি জুলাইকে মুছে দিতে চায়। কিন্তু আমরা জুলাইকে জাগ্রত রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শহীদদের স্মরণে কর্মসূচি করে থাকি।
কর্মসূচি শেষে ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের ফিনিশিং মেডেল প্রদান করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দ ও জিবিআইসিএসের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এমএস