কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জাউসপাড়া এলাকায় সম্প্রতি ভারী বর্ষণে ঘর হারানো অসহায় রোকেয়া বেগম ও দিল মোহাম্মদ দম্পতির পাশে দাঁড়িয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘অগ্রযাত্রা’। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পরিবারটির স্থায়ী আবাসন তৈরিতে এগিয়ে এসেছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে জাউসপাড়ায় অসহায় এই পরিবারের জন্য নতুন ঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ‘অগ্রযাত্রা’র পরিচালক নীলিমা আক্তার চৌধুরী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রামু উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন, মহিলা ইউপি সদস্য কামরুন নাহার, ইউপি সদস্য শাকুর, বিএনপির সহসভাপতি জয়নাল আবেদীন, কক্সবাজার জেলা সেচ্চাসেবক দলের সদস্য মুহিবুল্লাহ চৌধুরী জিল্লু, জোবায়ের, শহীদ প্রমুখ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের ফলে জাউসপাড়া এলাকার বাসিন্দা সড়ক দুর্ঘটনায় অসুস্থ দিল মোহাম্মদ ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগমের মাটি ও টিনের বসতবাড়িটি সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। ছয় কন্যাসন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে চরম বিপাকে পড়েন তারা। ঘটনাটি দৈনিক ‘খোলা কাগজ’সহ দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা সর্বস্তরের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
সংবাদ প্রকাশের পর তাৎক্ষণিকভাবে রামু উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে দুই বান্ডিল ঢেউটিন, নগদ অর্থ ও শুকনো খাবার প্রদান করা হয়। তবে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নেয় ‘অগ্রযাত্রা’। গত দুই দিন আগে সরেজমিনে ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করে পরিবারটিকে সম্পূর্ণ একটি নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সংস্থাটির পরিচালক নীলিমা আক্তার চৌধুরী। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে আজ (শুক্রবার) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হলো।
নতুন ঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ছয় কন্যাসন্তানের মা রোকেয়া বেগম বলেন, “আমার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনার পর থেকে ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না। অন্যদিকে বৃষ্টির পানিতে ঘরটি একেবারে ভেঙে যাওয়ায় আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। গণমাধ্যমে আমাদের খবর আসার পর অগ্রযাত্রার নীলিমা আপা আমাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছেন। উনি আমাদের একটা নতুন ঘর বানিয়ে দিচ্ছেন, এতে আমরা অনেক আনন্দিত।”
অগ্রযাত্রার পরিচালক নীলিমা আক্তার চৌধুরী জানান, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে সংস্থাটি মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় (হোস্ট) কমিউনিটির সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নিয়ে কাজ করে আসছে।
তিনি বলেন, “অজপাড়াগাঁ গর্জনিয়ার অসহায় রোকেয়া বেগমের ঘর ভেঙে পড়ার খবরটি সংবাদমাধ্যমে দেখে আমার খুব কষ্ট লেগেছিল। সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের একটি টিনের ঘর বানিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আশা করছি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ শেষ করে পরিবারটিকে নতুন ঘর বুঝিয়ে দিতে পারব।”
বেসরকারি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রাথমিক সহায় হিসেবে পরিবারটিকে খাদ্য, টিন ও অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। তবে ‘অগ্রযাত্রা’ যেভাবে পুরো ঘরটি বানিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক সংগঠনগুলো এভাবে এগিয়ে এলে অসহায় মানুষদের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।”
কেকে/ এমএস