বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬,
৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: ফখরুল ইসলামকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি      রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলামকে চীনের অভিনন্দন      মির্জা ফখরুল ইসলাম ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত      সংবিধানের ৭০ ধারায় পরিবর্তন আসবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭২      কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড, ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত      ছয় ব্যাংকে আটকে আছে ডেসকোর ২৫০ কোটি টাকা      
দেশজুড়ে
তিন কোটি টাকার সেতুতে নেই সংযোগ সড়ক, ভোগান্তিতে ১১ গ্রামের মানুষ
মো. মোশারফ হোসেন, দশমিনা (পটুয়াখালী)
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৮ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালীর দশমিনা ও বাউফল দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী বাঁশবাড়িয়া-বগী খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু সংযোগ সড়কের অভাবে ছয় বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। নকশাগত ত্রুটির কারণে মূল সেতুর কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে, দুই উপজেলার অন্তত ১১ গ্রামের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। 

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২৪ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ মিটার প্রস্থের আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় দুই কোটি ৮২ লাখ ১০ হাজার ৫০৬ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করে পটুয়াখালীর মেসার্স আবুল কালাম আজাদ এন্টারপ্রাইজ। ২০২০ সালের শেষ দিকে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণের সময় নকশায় ত্রুটি ধরা পড়ায় প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। 

সরেজমিনে দেখা যায়, বগী বাজারের দক্ষিণ পাশে নির্মিত সেতুর দুই প্রান্তে এখনো কোনো সংযোগ সড়ক নেই। প্রায় ২০ ফুট উঁচু সেতুতে উঠানামার জন্য স্থানীয়রা ইটের ব্লক দিয়ে অস্থায়ী সিঁড়ি তৈরি করেছেন। নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করছেন। কৃষিপণ্য পরিবহনেও সৃষ্টি হয়েছে চরম ভোগান্তি।

স্থানীয় মো. আবদুল হাই দাবি করেন, স্থানীয়দের মতামত না নিয়েই সেতুর নকশা করা হয়েছিল। মূল সেতুর কাজ শেষ হওয়ার পর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গিয়ে নকশার ভুল ধরা পড়ে। এরপর ছয় বছর পার হলেও কাজ শুরুর কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। 

এলাকার মশিউর রহমান লাবু জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে চলাচল করছেন। ইতোমধ্যে একাধিক দুর্ঘটনাও ঘটেছে। 

কৃষক সোহরাব মিয়া জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় কালাইয়া দক্ষিণের বাজারে কৃষিপণ্য নিতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

মাদ্রাসা শিক্ষক তুষার কান্তি ঘোষ জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী ইটের সিঁড়ি ও বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যাচ্ছে।

এ নিয়ে দশমিনা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমি যোগদানের আগেই সেতুর নকশা করা হয়েছিল। পরে নকশায় ত্রুটি ধরা পড়ায় কাজ বন্ধ রাখা হয়। ইতোমধ্যে নতুন নকশা অনুমোদন হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হলেই সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হবে।’

দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, ‘মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি নিয়ে এলজিইডির সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে।’

একে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  সেতু   সংযোগ সড়ক   ভোগান্তিতে মানুষ   দশমিনা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close