সহজ-সরল নারীর বিশ্বাসকে পুঁজি করে কৌশলে বিকাশ একাউন্ট থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধার করে ভুক্তভোগীর মুখে হাসি ফুটালো পুলিশ। পুলিশের দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপে প্রতারক বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধার করে ভুক্তভোগী নারীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, কক্সবাজারের রামু থানার ভুক্তভোগী খালেদা বেগম (৩৭) গত ২১ ও ২২ মে স্থানীয় বিকাশ এজেন্ট আমির আহমেদের (৩০) দোকানে টাকা তুলতে যান। সরল বিশ্বাসে তিনি নিজের মোবাইল ফোনটি এজেন্টের হাতে তুলে দেন। তবে গ্রাহকের সরলতার সুযোগ নিয়ে আমির আহমেদ সুকৌশলে গ্রাহকের অজান্তে বিকাশ একাউন্ট থেকে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। ২১ মে ৩ হাজার টাকার কথা বলে ৩০ হাজার টাকা এবং ২২ মে ২ হাজার টাকার কথা বলে ৫২ হাজার ৩৫০ টাকাসহ দুই দফায় সর্বমোট ৮২ হাজার ৩৫০ টাকা তুলে নেন ওই প্রতারক।
পরবর্তী বাড়িতে গিয়ে খালেদা বেগম একাউন্টের ব্যালেন্স চেক করে বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং তৎক্ষণাৎ বিকাশ এজেন্টের কাছে অতিরিক্ত টাকা ফেরতের দাবি জানান। কিন্তু আমির আহমেদ অতিরিক্ত টাকা তোলার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। ভুক্তভোগী নারী একাধিকবার টাকা ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারের লোকজন তাকে উল্টো অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে ভয় দেখান।
কোনো উপায় না পেয়ে খালেদা বেগম বিচার চেয়ে রামু থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানার উপপরিদর্শক (এসআই-নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আনোয়ার ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই-নিরস্ত্র) মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সত্যতা উন্মোচন করা হয়।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) পুলিশের প্রচেষ্টায় আত্মসাৎকৃত টাকার মধ্যে নগদ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং তা খালেদা বেগমের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
হারানো টাকা ফেরত পেয়ে খালেদা বেগম পুলিশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পুলিশের এই তৎপরতা ও সেবায় তার মুখে ফুটে ওঠে এক নির্মল হাসি।
এ নিয়ে রামু থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রতারণার বাকি টাকা দ্রুত উদ্ধার এবং অভিযুক্ত এজেন্টের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’
কেকে/এমএ