পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় এমসিকিউ প্রশ্নপত্র পূরণের অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্র সুপারের বিরুদ্ধে।
দশমিনা উপজেলা এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র সুপার হলেন ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজের ইসলামী ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক প্রভাষক মো. মহিউদ্দিন।
জানা যায়, চলমান এইচএসসি কেন্দ্র সুপার হিসাবে ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজের দায়িত্ব পান মো. মহিউদ্দিন। পরীক্ষার সময় সূচি অনুসারে শনিবার (১ আগষ্ট) কৃষি শিক্ষা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা। ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজে মূল কেন্দ্র হিসাবে দুইটি কক্ষে এবং সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সাব সেন্টার হিসাবে ১১টি কক্ষে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজে ১ নম্বর কক্ষে মো. মহিউদ্দিনের মামাতো ভাই মোরশেদ জিহান যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর-২১১৫৪৯৯৬৩২ রোল নম্বর ৪০৭২২৬ পরীক্ষা দেয়। কৃষি শিক্ষা দ্বিতীয় পত্রের এমসিকিউ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে কেন্দ্রের দুই কক্ষের এমসিকিউ উত্তর পত্র নিয়ে আসা হয় সাব সেন্টার সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্যাকিং করার জন্য। এ সময় কেন্দ্র সুপার তার মামাতো ভাইয়ের এমসিকিউ উত্তর পত্র বের করে মোবাইলের কপি করে ভরাট করেন।
বিষয়টি অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা দেখতে পেয়ে কেন্দ্র সচিবকে জানালে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমসিকিউ উত্তরপত্র ভরাট করার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হলে ভাইরাল হয়ে যায়।
জানতে চাইলে মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের মূল কেন্দ্র ছিল ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজে। হল রুম সংকট থাকায় সাব কেন্দ্র হিসেবে দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র করা হয়। আমরা প্রতিদিনই আমাদের কলেজে পরীক্ষার শেষে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দশমিনা হাই স্কুলে নিয়ে এসে প্যাকেট করে শিক্ষা বোর্ডে পাঠাই। তবে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
মামাতো ভাই ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজে পরীক্ষা দেয় কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা দেয়।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রভাষক, শিক্ষক ও কর্মচারী জানান, সিনিয়র শিক্ষককে অবহেলা করে কলেজের অধ্যক্ষ মো. সোহরব হোসেন দুর্নীতি ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মো. মহিউদ্দিনকে হল সুপার বানিয়েছেন। পরীক্ষা শুরু থেকে কলেজ থেকে এমসিকিউ পেপার আসলে এমন ঘটনা ঘটে, তবে সে পরীক্ষার হল সুপার দেইখা আমরা কিছু বলতে পারি না। আজ তাকে হাতেনাতে আমাদের কলেজের শারীরিক শিক্ষা প্রভাষক বেলাল ভাই ধরে মোবাইলে পেপার নিয়ে গেছে। পরে ঘটনা জানাজানি হলে আমাদের কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ স্যার বিষয়টি ধামাচাপা দেয়। এরই মধ্যে ওই ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কে দিয়েছে আমরা জানি না। সত্য কখনো চাপা থাকে না, তা আজকে প্রকাশ পেয়েছে।
এ বিষয়ে ডা. মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব মো. সোহরব হোসেন বলেন, ‘আজকে পরীক্ষা ছিল। তবে, তাদের রুম ও আমার রুম আলাদা থাকায় তেমন কিছু জানি না। যেহেতু তার নামে একটি অভিযোগ উঠেছে তাকে আমি কেন্দ্র সুপার থেকে বহিষ্কার করব। আপনাদের কাছে একটি রিকুয়েস্ট আপনারা মিডিয়া এটা প্রকাশ করিয়েন না। তাহলে আমাদের কলেজের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হবে।’
এ বিষয়ে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি শুনলাম। পরীক্ষায় অনিয়ম-দুর্নীতির কোন আশ্রয় নেই। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পরীক্ষার দায়িত্বরত সচিবের সাথে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ