বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নে এক অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ঘনিষ্ঠ দুই বন্ধুর বাড়িতে বিয়ের দাবিতে একই দিনে একযোগে অনশন শুরু করেছে জমজ দুই বোন।
শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর ও কবরস্থানপাড়া এলাকায় পৃথক দুটি বাড়িতে এ অনশন কর্মসূচি শুরু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাড়িদহ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনশনরত দুই বোন গাড়িদহ তালপট্টি (হাটগাড়ি) এলাকার মমিনুর রহমানের মেয়ে। তাদের মধ্যে একজন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী এবং অপরজন একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির ছাত্রী। অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী বিয়ের দাবিতে কাঞ্চনপুর এলাকার রইসুদ্দিনের ছেলে আরাফাতের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে। অপরদিকে, তার জমজ বোন গাড়িদহ কবরস্থানপাড়া এলাকার বিপ্লব হোসেনের ছেলে সোহানের (১৫) বাড়িতে অনশনে বসেছে। প্রেমিক আরাফাত ও সোহান উভয়েই দশম শ্রেণির ছাত্র।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কিশোর বয়সের প্রেমের ঘটনা নতুন নয়। তবে একই দিনে জমজ দুই বোনের পৃথকভাবে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে অনশনে বসার ঘটনা এলাকায় আগে কখনো দেখা যায়নি। শনিবার সন্ধ্যায় দুই বোন আলাদাভাবে তাদের প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসলে মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে এবং উৎসুক জনতা ওই বাড়িগুলোতে ভিড় জমায়।
জমজ দুই বোন জানায়, আমাদের পরিবার থেকে বাবা-মা প্রবাসী ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে এবং আজকের দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত জানাতে বলেছে। কিন্তু আমরা লেখাপড়া করতে চাই। এজন্য আমরা প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাড়িদহ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি সত্য। তবে ছেলে ও মেয়ে উভয় পক্ষই এখনো নাবালক। আইনগত বিষয় বিবেচনা করে দুই পরিবারকেই খবর দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।’
বর্তমানে অনশনরত দুই কিশোরী তাদের নিজ নিজ প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছে। তবে তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আইনগত জটিলতা এড়িয়ে কীভাবে দুই পরিবার এ সমস্যার সমাধান করবে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে এলাকাবাসী।
কেকে/এলএ