গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ, ব্যাংকিং জটিলতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যচাপের মধ্যেও তৈরি পোশাক রপ্তানিতে টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশের অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর দ্রুত অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে এ অবস্থান ধরে রাখতে উৎপাদন সক্ষমতা, অটোমেশন এবং প্রতিযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “চীনের এই শেয়ারটা আসলে এতটা ম্যাসিভ যে, এখানে অন্যরা সেই অনুপাতে গ্রো করতে পারেনি। এই গ্রো করতে না পারার কারণে আমরা বলছি যে, দ্বিতীয় স্থানে আছি। দ্বিতীয় আর প্রথমের যে তফাত বা পার্থক্য তো ৩৮ আর ১৫৭ বা ১৫৫।”
ডবলিউটিওর তথ্য বলছে, গেল বছর বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৩৮.৮২ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক, যার নিকটতম প্রতিযোগী ভিয়েতনামের চেয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বেশি। যদিও বছর ব্যবধানে কমেছে বিশ্ববাজারের হিসাব, সেই সাথে বাংলাদেশের যেখানে রপ্তানি বেড়েছে এক শতাংশের মতো সেখানে ভিয়েতনামের প্রায় ১১ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবির বলেন, “ভিয়েতনাম কিন্তু খুব দ্রুত এগিয়ে আসছে। আবার এদিকে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা আছে—এরাই তো মূল প্লেয়ার। কম্বোডিয়াও আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছে। তার মানে হলো যে, বাংলাদেশের অবস্থান এখন দ্বিতীয়, এটিকে ধরে রাখতে হবে আরও বেশ কিছুদিন। অন্তত এই জায়গাটা যেন কেউ না নিয়ে যায় এবং আরও দ্রুত আগোতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমাদের অটোমেশনটা দরকার।”
মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “বাংলাদেশের যে ৩৮ বা ভিয়েতনামের ৩৭, এইযে বাকি যে ব্যবসা আছে, এখানেও কিন্তু কম-বেশি সবই আসলে চায়না থেকেই আসছে, শ্রমটা বাধে।”
বছর ব্যবধানে রপ্তানি কমলেও বরাবরের মতই তৈরি পোশাকে এখনো শীর্ষ অবস্থানে চীন চতুর্থ স্থানে ভারত ও পঞ্চম তুরস্ক।
কেকে/এলএ