বাংলাদেশের নারীরা তাদের মেধা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছেন। আর এমনই একজন উদ্যোক্তা পাপড়ি রহমান। সামান্য পুঁজি নিয়ে তিনি শুরু করেছিলেন তার পথচলা। আজ তিনি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
সালটি ছিল ২০১৯। ফেসবুকের বিভিন্ন অনলাইন পেজ দেখে পাপড়ি রহমান নিজেই একটি অনলাইন পেজ তৈরি করেন। ওই সময় মাত্র ৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেন স্বপ্নের পথযাত্রা। আজ তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। বরিশাল নগরীর নাজিরপুল এলাকায় ‘ত্রয়ী’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি। যে পথে একসময় তিনি একাই হাঁটছিলেন, এখন সেই পথে তার সঙ্গী অর্ধশতাধিক নারী।
নারীদের উন্নয়ন এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন পাপড়ি রহমান। বরিশালে এই প্রথম তিনি স্যানিটারি ন্যাপকিন উৎপাদন শুরু করেছেন। সেখানে প্রশিক্ষণ দিয়ে অনেক সাধারণ নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি পার্লার, টেইলারিং ও বুটিকের প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন। বর্তমানে তার এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়া নারীদের সম্মানী দেওয়ার পাশাপাশি নিজেও আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন।
পাপড়ি রহমান বলেন, ২০১৯ সালে ৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে বাসায় বসে অনলাইন ব্যবসার পরিকল্পনা থেকে নিজের ব্যবসা শুরু করেন। প্রথমে কাপড়, বুটিক ও বিভিন্ন ডিজাইনের কাজ করলেও পরবর্তীতে তিনি বুটিক, পার্লার এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন উৎপাদন শুরু করেন। সেখানে বর্তমানে ৪০ থেকে ৪৫ জন নারী এবং ৫ জন পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। পাশাপাশি ২৬০ জন নারী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, সরকার থেকে আর্থিক সহযোগিতা না পেলেও একটি এনজিও থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন। পরিবারের সহযোগিতায় আজ একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছেন। তবে সরকার যদি নারী উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে আরও অনেক নারী নতুন জীবন গড়ে তুলতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন।
পাপড়ি রহমানের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন ফারজানা বিনতে কবির। তিনিও আজ নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের দুজনের পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠিত ‘ত্রয়ী’ এখন অনেক নারীর ভরসার কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে।
সফল উদ্যোক্তা পাপড়ি রহমানের ‘ত্রয়ী’ প্রতিষ্ঠানে এসে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর গল্প শোনান ইশরাত জাহান জেরিন। তিনি পার্লারে প্রশিক্ষণ নিয়ে বর্তমানে কাজ করছেন এবং প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা আয় করছেন। এতে জেরিন ও তার পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে।
বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন বলেন, শিক্ষিত নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পুঁজির ব্যবস্থা নেই। আমরা বারবার সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি, যাতে নারীদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, নারী জাগলে একটি পরিবার জাগবে, পরিবার জাগলে দেশ জাগবে।
বরিশালের জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন বলেন, সরকার নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করছে। যুব উন্নয়নের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিয়ে নারীদের উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। নারীরা যাতে তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
কেকে/ এমএস