ইচ্ছাশক্তি ও মনোবল কাজে লাগিয়ে আজকের নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে বহুদূর। তেমনই সফল গৃহিণীর পাশাপাশি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আরিফা খাতুন। সফল এই নারী উদ্যোক্তা উপজেলার গোবিন্দপুর পানুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক পেশায় একজন নেট ব্যবসায়ী।
জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার আগেই ২০০০ সালে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পরের বছর ২০০১ সালে এসএসসি এবং ২০০৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। পরে গৃহিণী হিসেবে ঘর-সংসার সামলেছেন অনেক বছর।
ছোটবেলা থেকেই কিছু করার ইচ্ছাশক্তি থেকে ২০০৯ সালে ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সেলাই প্রশিক্ষণ নেন। এই প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি দেবরের দেওয়া একটি সেলাই মেশিন দিয়ে নিজের বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। সময় যতই এগিয়ে যায়, ততই তার কাজের চাপ বাড়তে থাকে। সেজন্য ২০১৫ সালে বাড়ির পাশেই একটি দোকান ভাড়া নিয়ে সেখানে আরও কিছু সেলাই মেশিন বসিয়ে কাজের পরিসর বাড়ান।
‘জয়িতা সেন্টার’ নামে সেই দোকানে এখন তিনজন কর্মচারী। খরচ বাদে প্রতি মাসে তার আয় ১৫-২০ হাজার টাকা। এতে সংসারে ফিরেছে সচ্ছলতা। এলাকার মানুষের কাছেও হচ্ছেন প্রশংসিত।
কয়েক বছর আগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ব্লক-বাটিক, নকশিকাঁথা ও সেলাই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন আরিফা খাতুন। পরে নানা সময়ে প্রায় ৯০০ থেকে এক হাজার নারীকে এসব প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করেন তিনি। এসব নারী আজ নিজ সংসারে বোঝা না হয়ে আর্থিকভাবে সচ্ছল।
এসব কাজের স্বীকৃতি হিসেবে গত কয়েক বছর বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা হিসেবে পুরস্কৃত হন তিনি। এ ছাড়া সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কাজেও আরিফার রয়েছে সরব উপস্থিতি। ব্র্যাকের ‘পল্লী সমাজ’ নামে একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে তিনি এলাকার মানুষের বিভিন্ন বিপদ-আপদ ও সামাজিক সমস্যায় এগিয়ে আসেন।
সফল নারী উদ্যোক্তা আরিফা খাতুন বলেন, ‘সংসারের বোঝা হয়ে না থেকে ইচ্ছাশক্তি থেকেই সেলাইয়ের কাজ শুরু করেছি—যা থেকে নিজেও স্বাবলম্বী হয়েছি, অন্যদেরও উৎসাহিত করছি।’
তবে সহায়তা পেলে এই প্রশিক্ষণের কাজ ব্যাপক পরিসরে করা যাবে বলে জানান তিনি।
উপজেলার সচেতন সমাজ বলছে, আরিফা উপজেলার নারীদের মডেল। তার এসব কাজে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অনেক নারীই সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।
কেকে/ এমএস