রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনকে রূপান্তর করে নির্মিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের পরপরই উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা গেছে। তবে উদ্বোধনের দিন সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশের অনুমতি না থাকায় অনেকেই উঁকি দিয়ে দেখেন আবার অনেকে বাইরে থেকেই ফিরে যান।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ জাদুঘরটি দেখতে শেরেবাংলা নগরে আসেন। কেউ সাবেক গণভবনের ভেতরের পরিবেশ দেখার আগ্রহে, আবার কেউ ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন ও ইতিহাস জানার উদ্দেশ্যে সেখানে উপস্থিত হন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জাদুঘরের সামনে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই এসেছে গণভবন এখন যাদুঘর এটাই দেখতে।
দর্শনার্থী ছানাউল বলেন, ‘এটি আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছিল। তাই কেমন ছিল গণভবন, সেটি দেখতে এসেছি। কিন্তু আজ প্রবেশ করতে পারিনি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাল (৬ আগস্ট) থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।’
আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘টিকিটের মূল্য বড় বিষয় নয়। এখানে কী সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং ইতিহাস কীভাবে তুলে ধরা হয়েছে, সেটিই দেখতে চাই। এখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বসবাস করতো জুলাই আন্দোলনে গণঅভ্যুত্থানের পর এটি এখন জুলাই যাদুঘর তাই এখানে কি রয়েছে তা দেখতে চাই।’
জানতে চাইলে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম খোলা কাগজকে বলেন, ‘আগামীকাল থেকে ৫০ টাকার টিকিট কেটে যে কোনো নাগরিক জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবেন। জাদুঘরের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের নিয়মিত টহল অব্যাহত থাকবে, যাতে দর্শনার্থী ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরটি আগামীকাল (৬ আগস্ট) থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
কেকে/ এমএস