উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে মাগুরার মহম্মদপুরে মধুমতি নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র নদীভাঙন। অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের হাজারো মানুষ। ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে ভাঙন-আতঙ্কে কাটছে তাদের প্রতিটি মুহূর্ত।
উপজেলার বসুরধুলজুড়ী, ভোলানাথপুর, রুইজানী, গোপালনগর, হরেকৃষ্ণপুর, ঝামা বাজার ও চরঝামাসহ অন্তত ৭-৮টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভাঙন প্রবল আকার ধারণ করেছে। ভাঙনের গ্রাসে প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে একর একর আবাদি জমি, মসজিদ, গোরস্থান, স্কুল, বসতঘর, গাছপালা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হরেকৃষ্ণপুর ও ঝামা এলাকার বিভিন্ন স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী। এ সময় তিনি ৩০০ মিটার জিওব্যাগ ডাম্পিং এলাকার পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন এবং ভিটেমাটি হারানো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সার্বিক খোঁজখবর নেন। পরিদর্শনকালে স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে ভিডিও বক্তব্যে ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশনায় আজ হরেকৃষ্ণপুরের নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। এখানে এসে দেখলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ড আগে প্রায় ১০০ মিটার এলাকায় কাজ করেছিল। কিন্তু নতুন করে প্রায় ৩০০ মিটার এলাকা ভেঙে গেছে এবং দুটি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে মহম্মদপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’
পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে প্রেসক্লাব মহম্মদপুরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ইত্তেফাক সংবাদদাতা মেহেদী হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ রানাসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে প্রতিনিয়ত নদীভাঙন অব্যাহত থাকায় চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ। টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে মধুমতির ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
কেকে/এলএ