কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয়জনের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি এবং দুজন ভারতীয় বলে নিশ্চিত করেছে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জানান কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনার মোহাম্মদ খালেদ। তিনি বলেন, “নিহত নয়জনের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি দুজন ভারতীয়। নিহতদের পূর্ণ পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে নাম প্রকাশ করা হবে।”
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গভীর রাতে কলকাতার নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকায় হোটেল শিখা ইনে আগুন লাগে। ওই সময় হোটেলের অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুনের পাশাপাশি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়ায় অনেকেই ভেতরে আটকা পড়েন।
ঘটনার পর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রথমে নিহত সবাই বাংলাদেশি বলে খবর প্রকাশিত হয়। পরে স্থানীয় পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঁচজন বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। তাদের মধ্যে ছিলেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী, ছেলে ও শ্বশুর। আরও কয়েকজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার আশঙ্কার কথাও তখন জানানো হয়েছিল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে হোটেলটির তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন আশপাশের অংশেও ছড়িয়ে পড়ে। হোটেলের কক্ষগুলো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে আতঙ্কিত অতিথিরা বের হওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনাস্থলের কাছেই কলকাতা ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর থাকায় খবর পাওয়ার পর দ্রুত সেখানে পৌঁছান দমকলকর্মীরা। চারটি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পাশাপাশি নিউ মার্কেট থানা পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।
স্থানীয়দের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনের বাইরে থেকে আগুনের শিখা তেমন দেখা যায়নি। তবে ভবন থেকে প্রচুর কালো ধোঁয়া বের হচ্ছিল। সরু গলির কারণে আতঙ্কিত অতিথিদের বের হতে গিয়ে ভেতরে হুড়োহুড়ির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভবনটি থেকে প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া অনেকেই ধোঁয়ায় অসুস্থ বা অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
কেকে/সাশ